ডাবল মার্ডারের সাক্ষীকে খুন! ৫০ হাজারি ২ কুখ্যাত শুটারকে ‘এনকাউন্টার’ করে ধরল পুলিশ, চলল ১৩ রাউন্ড গুলি

ডাবল মার্ডারের প্রধান সাক্ষীকে হত্যার ঘটনায় দু’জন কুখ্যাত ওয়ান্টেড শুটারকে ‘এনকাউন্টার’-এর পর গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গুরুগ্রামে দিল্লি পুলিশ ও গুরুগ্রাম ক্রাইম ব্রাঞ্চের যৌথ দলের সঙ্গে দুষ্কৃতীদের ব্যাপক গুলির লড়াই হয়। এই সংঘর্ষে দুই দুষ্কৃতীর পায়ে গুলি লাগে এবং দিল্লি পুলিশের এক সাব-ইনস্পেক্টরও আহত হন। দু’জনকেই ৫০-৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রাজেন্দ্র পার্ক এলাকায় ওঁত পেতে ছিল পুলিশ। সন্দেহভাজনদের দেখে থামার সঙ্কেত দেওয়া হলে, তারা পালটা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। পুলিশের তরফে পাল্টা জবাব দেওয়া হয়। পুলিশ ও দুষ্কৃতীদের মধ্যে মোট ১৩ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়, যার মধ্যে দুষ্কৃতীরা ৬ রাউন্ড এবং পুলিশ ৭ রাউন্ড গুলি চালায়।

গ্রেফতার হওয়া দুই দুষ্কৃতী হল – দিল্লির গোলা ডেয়ারির মোহিত জাখর (২৯) এবং উত্তম নগরের যতীন (২১)। সংঘর্ষের সময় দুষ্কৃতীদের ছোড়া প্রথম গুলিটি দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের হেড কনস্টেবল নরপতের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটে লাগে, ফলে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এরপরই সাব-ইনস্পেক্টর বিকাশ-এর বাঁ হাতে গুলি লাগে। তিনজনকেই গুরুগ্রামের সেক্টর-১০-এর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সকলের অবস্থাই স্থিতিশীল।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি পিস্তল, ৪টি তাজা কার্তুজ, একটি চুরি যাওয়া বাইক এবং ১৩টি গুলির খোল উদ্ধার করেছে। পুলিশ মুখপাত্র সন্দীপ কুমার জানান, অভিযুক্তদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার পর বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

পুরো ঘটনা: গত ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪-এ নাজফগড়ের একটি সেলুনে সোনু এবং আশিসকে গুলি করে খুন করা হয়। সেই নৃশংস ঘটনার মূল সাক্ষী ছিলেন নীরজ তেহলান। কিন্তু এরপরই চরম মোড়! গত ৩ জুলাই, ২০২৫-এ নাজফগড়েই গাড়ি নিয়ে যাওয়ার পথে বাইক আরোহী দুষ্কৃতীরা এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে খুন করে নীরজকে। এই সাক্ষীকে হত্যার পরই পুলিশ এই মামলাটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিল এবং দ্রুত অভিযুক্তদের খুঁজছিল।