ইরানের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও যুদ্ধের প্রভাব এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শক্তিশালী অর্থনীতিতেও ফাটল ধরাতে শুরু করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ডলারের যোগান ঠিক রাখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আর্থিক সহায়তার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউএই। সূত্রের খবর, প্রয়োজনে ডলার সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমেরিকার সাথে একটি ‘কারেন্সি সোয়াপ’ বা মুদ্রা বিনিময় চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে দেশটি। এই লক্ষ্যে ইউএই-এর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর খালিদ মোহাম্মদ বালামা ওয়াশিংটনে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেস্যান্ট এবং ফেডারেল রিজার্ভের কর্তাদের সাথে বৈঠক করেছেন।
সতর্কতামূলক পদক্ষেপ না কি সংকট?
সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে যে, এখন পর্যন্ত তাদের বড় কোনো ক্ষতি না হলেও পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বাজারের চাপ বাড়লে বা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমতে শুরু করলে ডলারের ঘাটতি রোধ করার জন্যই এই আগাম সতর্কতা। তবে ইউএই অত্যন্ত কড়া ভাষায় যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে যে, যদি ডলারের ঘাটতি দেখা দেয়, তবে তারা তেল এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য চিনা মুদ্রা ‘ইউয়ান’ ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে কাঠগড়ায় তোপ
এই সংকটের জন্য সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তাদের দাবি, ইরানের ওপর হামলা চালানোর ট্রাম্পের সিদ্ধান্তই তাদের এই ভয়াবহ সংঘাতে জড়িয়ে ফেলেছে। এই যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং তেল-গ্যাস পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে ডলার-ভিত্তিক আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি পুঁজি বহির্গমন এবং বাজারের অস্থিরতা কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
রিজার্ভ বনাম বর্তমান চ্যালেঞ্জ
বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৫ লক্ষ কোটি টাকা)। তাদের মুদ্রা ‘দিরহাম’ সরাসরি ডলারের সাথে যুক্ত থাকায় অর্থনৈতিক চাপ আরও তীব্র অনুভূত হচ্ছে। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র বড় দেশগুলোকেই কারেন্সি সোয়াপ সুবিধা দিয়ে থাকে, তবে ২০০৮-এর মন্দা বা কোভিডের সময় ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিয়েছিল ওয়াশিংটন। এখন দেখার বিষয়, মধ্যপ্রাচ্যের এই বন্ধু রাষ্ট্রকে বাঁচাতে আমেরিকা কী পদক্ষেপ নেয়। অন্যদিকে, আবুধাবি ইতিমধ্যেই ৪ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে এবং বাহরাইনের সাথে ৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি সেরে কোমর বেঁধে নেমেছে।





