নির্বাচনের উত্তাপ যত বাড়ছে, ততই চড়ছে ভাষার পারদ। শুক্রবার এক নির্বাচনী জনসভা থেকে বিজেপিকে এক হাত নিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অত্যন্ত কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে তিনি দাবি করেন, কোনো সুস্থ-মস্তিষ্কের বা শিক্ষিত মানুষ বর্তমানে বিজেপি করতে পারেন না।
অভিষেকের বিষ্ফোরক অভিযোগ: জনসভা থেকে নাম না করে বিজেপি নেতাদের দিকে আঙুল তুলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন:
“ভদ্র ও শিক্ষিতদের স্থান নেই”: তাঁর দাবি, বর্তমানে বিজেপির নীতি ও কর্মকাণ্ড এতটাই নিম্নমানের যে কোনো সভ্য মানুষ সেই দলের পতাকাতলে দাঁড়াতে লজ্জা পাবেন।
অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য: অভিষেকের সবথেকে বড় আক্রমণ ছিল বিজেপিতে যোগদান নিয়ে। তিনি বলেন, “আগে চোর, ডাকাত বা ধর্ষকেরা অপরাধ করলে সোজা জেলে যেত। আর এখন তারা নিজেদের পিঠ বাঁচাতে বিজেপির ওয়াশিং মেশিনে ঢুকে পড়ছে।”
আইন-শৃঙ্খলার অবনতি: গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে অপরাধীদের আড়াল করার অভিযোগ তুলে তিনি সাফ জানান, সাধারণ মানুষের সুরক্ষার বদলে অপরাধীদের সুরক্ষা দেওয়াই এখন পদ্ম শিবিরের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন এই কড়া আক্রমণ? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে আরজি কর ইস্যু এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিজেপি যখন তৃণমূলকে বিঁধছে, তখন পাল্টা ‘চরিত্রহনন’ ও ‘ওয়াশিং মেশিন’ তত্ত্বকে হাতিয়ার করে পালটা প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন অভিষেক। বিশেষ করে গ্রামবাংলার মানুষের কাছে বিজেপিকে ‘অশুভ শক্তি’ হিসেবে তুলে ধরাই তাঁর এই বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য।
বিজেপির পাল্টা হুঙ্কার: অভিষেকের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। তাদের বক্তব্য, “তৃণমূলের দুর্নীতির পাহাড় ধসে পড়ছে বলেই এখন পাগলের মতো প্রলাপ বকছেন অভিষেক। বাংলার মানুষই বুঝিয়ে দেবেন কারা চোর আর কারা শিক্ষিত।”
উপসংহার: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘ভদ্র-সভ্য-শিক্ষিত’ মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এই বাগযুদ্ধ ভোটের ময়দানে সাধারণ মানুষের মনে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





