নিজের প্রাণ দিয়ে যমদূতকে রুখল সে! স্কুলে শিশুদের সামনে বিষধর সাপ, দেবদূতের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল পথকুকুর!

অবলা প্রাণীরাও যে মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু হতে পারে, তার এক মর্মান্তিক অথচ বীরত্বপূর্ণ উদাহরণ তৈরি হলো এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। একদল কচি-কাঁচা শিশুর প্রাণ বাঁচাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করল একটি সাধারণ পথকুকুর। যে সাপটিকে দেখে ভয়ে সিঁটিয়ে গিয়েছিল সবাই, সেই যমদূতের সামনে বুক চিতিয়ে লড়াই করে শিশুদের জয়ী করল সে।

ঘটনাটি ঠিক কী ঘটেছিল? স্কুলে তখন টিফিনের সময়। একদল শিশু মাঠের এক কোণে খেলা করছিল। আচমকাই ঝোপের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে একটি বিশালকার বিষধর সাপ। শিশুরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাপটি ফণা তুলে তাদের দিকে ধেয়ে আসতে থাকে। ঠিক সেই মুহূর্তেই ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হয় ওই এলাকারই পরিচিত একটি পথকুকুর।

রক্তক্ষয়ী লড়াই ও চূড়ান্ত আত্মত্যাগ: শিশুদের বিপদে পড়তে দেখে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে সাপের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কুকুরটি। শুরু হয় জীবন-মরণ লড়াই। সাপটি বারবার ফণা তুলে কুকুরটিকে আঘাত করার চেষ্টা করে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর সাপটিকে নিস্তেজ করতে সক্ষম হয় কুকুরটি, কিন্তু এই লড়াইয়ের মাঝেই কালনাগিনীর মরণ-কামড় বসিয়ে দেয় কুকুরটির শরীরে।

মর্মান্তিক পরিণতি: সাপের হাত থেকে শিশুদের রক্ষা পেলেও, বিষের জ্বালায় ছটফট করতে করতে কিছুক্ষণের মধ্যেই নিস্তেজ হয়ে পড়ে ওই বীর সারমেয়টি। স্কুলের শিক্ষক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এলেও তাকে বাঁচানোর আর সময় পাওয়া যায়নি। শিশুদের প্রাণ বাঁচিয়ে নিজে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে।

শোকস্তব্ধ এলাকা: যাদের প্রাণ বাঁচল, সেই খুদেদের চোখে এখন জল। পুরো এলাকা জুড়ে এখন বিষাদের ছায়া। গ্রামবাসীদের কথায়, “ও কেবল একটা কুকুর ছিল না, ও ছিল আমাদের শিশুদের দেহরক্ষী।” ওই পথকুকুরটির এই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের কথা এখন সবার মুখে মুখে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy