অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ১২ পাতার ফর্মে নজিরবিহীন তথ্য তলব! ৩ হাজার টাকা পেতে কী কী নথি লাগবে?

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার নতুন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের রূপরেখা প্রকাশ করল রাজ্য সরকার। বুধবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রকল্পের নতুন ফর্ম প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ফর্ম প্রকাশের পর থেকেই তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ১২ পাতার এই দীর্ঘ ফর্মে সাধারণ তথ্যের পাশাপাশি চাওয়া হয়েছে আবেদনকারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে অতি বিশদ তথ্য।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শুধু আবেদনকারী নন, পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের খুঁটিনাটি তথ্য দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতা, আয়ের উৎস, কর্মসংস্থানের ধরন, এবং তাঁরা সরকারি বা কেন্দ্রীয় কোনো দপ্তরে কর্মরত কি না বা পেনশন পান কি না। এছাড়া, পরিবারের কেউ জনপ্রতিনিধি হিসেবে কোনো পদে আছেন কি না, স্বাস্থ্য বিমা আছে কি না, কিংবা আয়করদাতা কি না, সেই সব তথ্যও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। বাড়ির ধরণ, জমির পরিমাণ, যানবাহনের মালিকানা, ভোটার কার্ড ও প্যান কার্ডের নম্বরসহ বিস্তৃত তথ্য এই ফর্মে চাওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, নাগরিকত্ব ও আইনি সংক্রান্ত তথ্যও এই ১২ পাতার ফর্মে রাখা হয়েছে। পরিবারের কেউ সিএএ (CAA)-তে আবেদন করেছেন কি না, এনআরসি (NRC) তালিকা থেকে কারও নাম বাদ পড়েছে কি না, এবং বাদ পড়লে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছে কি না—তাও জানাতে হবে। কেন এত তথ্যের প্রয়োজন? এই প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার জানান, সরকার দরিদ্র মহিলাদের মাসিক ৩,০০০ টাকা ভাতা দিতে চায়। সেই সঙ্গে প্রতিটি পরিবারের একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেস তৈরি করার উদ্দেশ্য রয়েছে সরকারের। এই তথ্যের ভিত্তিতেই রাজ্য ও কেন্দ্রের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

তবে ১২ পাতার এই ফর্ম সাধারণ মানুষের কাছে কিছুটা জটিল মনে হতে পারে। তাই এই ফর্ম পূরণের জন্য সরকার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিডিও অফিস থেকে শুরু করে স্থানীয় বিধায়কদেরও ফর্ম পূরণের কাজে যুক্ত করা হয়েছে। ১৫ থেকে ১৭ তারিখের মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন জনকল্যাণ শিবিরে এই ফর্ম পূরণে সাহায্য করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। বিডিওদের সঙ্গে এই বিষয়ে ভার্চুয়াল সভাও অনুষ্ঠিত হবে।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রায় ৩০ লক্ষ অযোগ্য উপভোক্তার নাম শনাক্ত হওয়ার পর সরকার এই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছে। পুরনো প্রকল্পের ‘বেনোজল’ সরাতেই নতুন প্রকল্পে এই কঠোর যাচাইকরণ প্রক্রিয়া। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মাধ্যমে প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তারা যাতে বঞ্চিত না হন এবং ভুয়া আবেদনকারীদের চিহ্নিত করা যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই ১২ পাতার ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। এখন দেখার বিষয়, এই দীর্ঘ ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের কাছে কতটা সহজতর হয়ে ওঠে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy