ট্রাম্পের হুঙ্কারেই কি তাসের ঘরের মতো ভাঙল শেয়ার বাজার? সেনসেক্স-নিফটির রক্তক্ষরণে কপালে হাত বিনিয়োগকারীদের!

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণার জেরে আশঙ্কা সত্যি করে তীব্র অস্থিরতা শুরু হয়েছে বৈশ্বিক ও দেশীয় শেয়ার বাজারে। জাপান, কোরিয়া এবং হংকংয়ের মতো আন্তর্জাতিক বাজারগুলোর পাশাপাশি এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ভারতীয় পুঁজিবাজারেও। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে লেনদেন শুরু হতেই বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (BSE) প্রধান সূচক সেনসেক্স ৭৭০ পয়েন্টেরও বেশি পতনের জেরে ৭৫,৬১৩ অঙ্কের স্তরে নেমে আসে। একই পথ অনুসরণ করে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (NSE) সূচক নিফটি-ও शुरुआती বা শুরুর দিকে ২০০ পয়েন্টের বেশি ধসে গিয়ে ২৩,৬৪৬-এর ঘরে এসে ঠেকে। এই আকস্মিক ও ব্যাপক দরপতনের জেরে বহু প্রথম সারির কোম্পানির শেয়ার নিমেষে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে দেখা যায়, যা বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বাজার খোলার পরপরই বিএসই সেনসেক্স আগের দিনের ৭৬,৩৯১ পয়েন্টের বন্ধের স্তর থেকে নেমে সরাসরি ৭৫,৭০৮ এবং মুহূর্তের মধ্যে ৭৫,৬১৩-তে খসে পড়ে। এনএসই নিফটির ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়, যেখানে আগের দিনের ২৩,৮৬৯ সূচক থেকে কমে তা সোজা ২৩,৬৪৬ পয়েন্টে নেমে আসে। বিশেষ করে প্রায় ১০টি প্রধান শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন রেকর্ড করা হয়েছে। লার্জ-ক্যাপ ক্যাটাগরির মধ্যে ইন্ডিগো (২.৬০ শতাংশ), ইটারনাল (২.৫০ শতাংশ) এবং ভারতী এয়ারটেল (১.৬০ শতাংশ)-এর মতো হেভিওয়েট শেয়ারগুলো মারাত্মক চাপের মুখে পড়ে। পাশাপাশি মিড-ক্যাপ বিভাগের ফিনিক্স (২.২০ শতাংশ) এবং মুথুট ফাইন্যান্স (২ শতাংশ), এবং নাইকা (১.৭০ শতাংশ) কিংবা গোদরেজ প্রপার্টিজ (১.৬৫ শতাংশ)-এর মতো জনপ্রিয় সংস্থার শেয়ারও দরপতনের শিকার হয়। স্মল-ক্যাপ ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (২.৪০ শতাংশ), আইআইএফএল (২.১০ শতাংশ) এবং অ্যাম্বারের (১.৯৫ শতাংশ) মতো শেয়ারের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক প্রায় ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তই এই বৈশ্বিক বাজার ধসের মূল অনুঘটক। ভারতের মতো দেশগুলোর ওপর ধার্য করা এই ১০ শতাংশ শুল্ক সরাসরি কার্যকর হওয়ার পরই বিশ্বজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভারতীয় বাজারে এই বিপর্যয়ের পূর্বাভাস আগেই মিলছিল বিদেশি বাজারগুলোর গতিপ্রকৃতি থেকে। ট্রাম্পের নীতির প্রভাবে এশিয়ার অন্যান্য প্রধান বাজারগুলোতেও বড় ধরনের ধস নামে। জাপানের নিক্কেই সূচক দুই হাজারেরও বেশি পয়েন্ট হারিয়ে কারবার চালাচ্ছিল, এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক প্রায় ৬ শতাংশ পতনের মুখে পড়ে। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচকও প্রায় ২ শতাংশ নিম্নমুখী ছিল। শুধু এশিয়ায় নয়, ইউরোপের ডিএএক্স, সিএসি কিংবা ব্রিটেনের এফটিএসই-১০০-এর মতো সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সূচক ‘রেড জোন’-এ চলে যায়। এমনকি গিফট নিফটির ক্ষেত্রেও ২০০ পয়েন্টের বড় দরপতন পরিলক্ষিত হয়, যা সামগ্রিক বিশ্ব অর্থনীতিতে এক গভীর অনিশ্চয়তার বার্তা দিচ্ছে।