ট্রাম্পের চীন সফরে ‘ডিজিটাল লকডাউন’! ফোন ছাড়াই বেজিংয়ে ইলন মাস্ক-টিম কুক, নেপথ্যে কি ভয়ঙ্কর গুপ্তচরবৃত্তি?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চীন সফরকে কেন্দ্র করে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এল। কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্তরে এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এর পর্দার আড়ালে কাজ করছে এক নজিরবিহীন ‘সাইবার সুরক্ষা বলয়’। জানা গেছে, এই হাই-প্রোফাইল সফরে ট্রাম্পের সঙ্গী ইলন মাস্ক এবং অ্যাপল সিইও টিম কুকের মতো বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরাও তাঁদের ব্যক্তিগত ফোন বা ল্যাপটপ সঙ্গে নেননি। চীনের মাটিতে পা রাখার আগে ট্রাম্পের পুরো প্রতিনিধি দলকে কার্যত ‘ডিজিটাল লকডাউন’-এর আওতায় আনা হয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, চীনে পা রাখলেই ব্যক্তিগত ডিভাইসগুলো হ্যাক হতে পারে বা তাতে আড়িপাতার বিশেষ সফটওয়্যার ঢুকিয়ে দেওয়া হতে পারে। ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ট্রাম্পের সফরসঙ্গীদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, কেউ যেন তাঁদের নিয়মিত ব্যবহৃত স্মার্টফোন বা কম্পিউটার সঙ্গে না রাখেন। পরিবর্তে তাঁদের দেওয়া হয়েছে ‘ক্লিন ডিভাইস’ বা ‘লোনার ফোন’। এই ফোনগুলোতে কোনও ব্যক্তিগত চ্যাট, ব্যাঙ্কিং ডেটা বা সংবেদনশীল তথ্য নেই। সফরের প্রয়োজনে যতটুকু ডেটা দরকার, কেবল সেটুকুই এই অস্থায়ী ডিভাইসগুলোতে আপলোড করা হয়েছে। এমনকি সফর শেষ হওয়ার পর এই ডিভাইসগুলো হয় সম্পূর্ণরূপে ফরম্যাট করে দেওয়া হবে, না হয় ধ্বংস করে ফেলা হবে।

নিরাপত্তার কড়াকড়ি এখানেই শেষ নয়। মার্কিন কর্মকর্তারা স্থানীয় কোনও ইউএসবি চার্জিং পোর্ট বা চার্জিং স্টেশন ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমনকি একটি সাধারণ চার্জিং কেবলের মাধ্যমেও ম্যালওয়্যার পাঠিয়ে তথ্য চুরি করা সম্ভব। এই ঝুঁকি এড়াতে ট্রাম্পের দল আমেরিকা থেকে পরীক্ষিত নিজস্ব ব্যাটারি প্যাক এবং চার্জার নিয়ে এসেছেন। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থাকে ‘সোনালী দৃষ্টান্ত’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।

দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকার অভিযোগ, চীন অত্যন্ত আগ্রাসীভাবে সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি চালায়। মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, চীনা হ্যাকাররা প্রতিনিয়ত আমেরিকার বিদ্যুৎ গ্রিড, জল সরবরাহ ব্যবস্থা এবং টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। যদিও চীন এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ওয়াশিংটনের চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ জানিয়েছেন, চীন আইন মেনেই ডেটা সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং কাউকে অবৈধভাবে তথ্য সংগ্রহে বাধ্য করে না। তবে ইতিহাসের পাতায় নজর দিলে দেখা যায়, আড়িপাতার অভিযোগে আমেরিকাও ধোয়া তুলসি পাতা নয়। এডওয়ার্ড স্নোডেন অতীতে ফাঁস করেছিলেন কীভাবে মার্কিন সংস্থা এনএসএ বিশ্বনেতাদের ফোনে নজরদারি চালিয়েছিল। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই চীন সফর এখন কার্যত এক অদৃশ্য সাইবার যুদ্ধের রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy