বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত মন্তব্য ও রণকৌশলগত সিদ্ধান্তের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল, ২০২৬) বিকেলের এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধিতে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কেন এই আকস্মিক দাম বৃদ্ধি? বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ (Naval Blockade) বজায় রাখা এবং হরমুজ প্রণালীতে বিধিনিষেধ আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, তেহরানকে পরমাণু আলোচনায় বাধ্য করতে এই অর্থনৈতিক চাপ জরুরি। বুধবার একটি বিবৃতিতে তিনি জানান, ইরানকে ‘শিক্ষা’ দিতে তিনি এই অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রস্তুত। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তেলের বাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বাজারের বর্তমান চিত্র:
ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude): আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৫ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১২০.৮৪ ডলারে পৌঁছেছে।
ডব্লিউটিআই (WTI): মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়ে ১০৯ ডলার ছাড়িয়েছে।
ফলাফল: মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তেলের এই উল্লম্ফন গত ৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড স্পর্শ করল।
ভারতের ওপর প্রভাব: ভারত তার মোট চাহিদার সিংহভাগ তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। এর ফলে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও আকাশছোঁয়া হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
ভবিষ্যৎ কী? হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। যদি এই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং ট্রাম্প তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন, তবে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৪০ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একদিকে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আর অন্যদিকে জ্বালানি তেলের এই অগ্নিমূল্য—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের পকেটে যে বড় টান পড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।





