টোটো জট নিয়ে আসানসোলে উত্তপ্ত রাজনীতি, সৌজন্যের সাক্ষাৎ মেয়র-বিধায়কের, অন্যদিকে আক্রমণ শানালেন মন্ত্রী মলয় ঘটক

আসানসোলের প্রাণকেন্দ্র হটন রোড মোড়, যেখানে একদিকে বাজার এবং অন্যদিকে সিটি বাসস্ট্যান্ড, সেই সদাব্যস্ত মোড় এখন অনিয়ন্ত্রিত টোটো চলাচলের কারণে কার্যত অচল। মাত্রাতিরিক্ত যানজটের কারণে এই রাস্তা দিয়ে আসানসোল জেলা হাসপাতালে যাওয়ার মূল পথ প্রায়শই অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, ফলে আটকে পড়ে অ্যাম্বুলেন্স। এই সমস্যা চাক্ষুষ দেখতে পেয়ে কিছুদিন আগে বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল নিজেই রাস্তায় নেমে টোটো নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছিলেন। স্থায়ী সমাধানের জন্য এবার তিনি আসানসোলের মেয়র বিধান উপাধ্যায়ের সঙ্গে সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ করেছেন। কিন্তু এই উদ্যোগেও লেগেছে রাজনীতির রং।
সৌজন্যের রাজনীতি:
অগ্নিমিত্রা পাল মেয়র বিধান উপাধ্যায়ের সঙ্গে বিশেষ অ্যাপোয়েন্টমেন্ট নিয়ে সাক্ষাৎ করেন। টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং তাদের জন্য পৃথক পার্কিং তৈরির বিষয়ে দুজনের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। মেয়র বিধান উপাধ্যায় বৈঠকের পর জানান, “অগ্নিমিত্রাদি এসেছিলেন। এটা সত্যিই আসানসোলে হটন রোডে টোটোর সমস্যা। এই সমস্যাকে সমাধান করতে হবে।” অগ্নিমিত্রা পালও জানান, “মেয়রের সঙ্গে আলোচনা সদর্থক হয়েছে। আশা করছি এই সমস্যার খানিকটা হলেও সমাধান হবে।”
মন্ত্রী মলয় ঘটকের কটাক্ষ:
একদিকে যখন সৌজন্যের বাতাবরণ, ঠিক তখনই রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক অগ্নিমিত্রা পালের ‘টোটো অভিযান’ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। আসানসোলের একটি সভায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “বিজেপির একজন বিধায়ক আছেন। তিনি যখন রাস্তা দিয়ে চলেন তখন তাঁর জন্য রাস্তা ফাঁকা করে দিতে হবে। গরিব লোকের টোটো চালানো যাবে না… এই হচ্ছে বিজেপির নেতৃত্বের মনোভাব।”
অগ্নিমিত্রার পাল্টা জবাব:
মলয় ঘটকের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “মলয় ঘটক রাজ্যের একজন উচ্চ মন্ত্রী। তাঁর কাছ থেকে এটা আমি আশা করি না। আমি মানুষের সমস্যার সমাধানের কথাই বলেছিলাম। উনি তো বড় বড় মানুষ। ওঁরা কনভয় নিয়ে যান। ওঁদের জন্য রাস্তা সবসময় ফাঁকা থাকে। আমরা ছোটখাটো মানুষ। আমরা মানুষের মাঝেই থাকি, তাই মানুষের সমস্যার সমাধানের কথা আমরা ভেবেছি।” আসানসোল একইসঙ্গে সৌজন্যতা এবং কড়া রাজনৈতিক আক্রমণের মিশ্র চালচিত্রের সাক্ষী থাকল।