ডিজেল-বিদ্যুতের দিন শেষ? দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের সফল দৌড়, কী থাকছে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে?

ভারতীয় রেলের ইতিহাসে নতুন দিগন্তের সূচনা! কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে দূষণমুক্ত ভবিষ্যতের দিকে এক বড় পদক্ষেপ নিল ভারত। হরিয়ানার জিন্দ-সোনিপত রুটে সফলভাবে ট্রায়াল রান সম্পন্ন করল দেশের প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘গ্রিন হাইড্রোজেন’ চালিত ট্রেন।

ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিবেগ গত ২৬ জুন জিন্দ-সোনিপত রুটে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক ট্রায়াল রানে ট্রেনটি সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার গতিতে ছুটেছে, যা এর সক্ষমতার প্রমাণ দেয়। রেলওয়ে বোর্ডের অনুমোদিত ১০ কোচের এই বিশেষ ট্রেনটি যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সাধারণ যাত্রী পরিষেবার ক্ষেত্রে ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার গতিতে চালানো হবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে। এই সাফল্যের মাধ্যমে ভারত এখন আমেরিকা, জার্মানি, জাপান এবং চীনের মতো উন্নত দেশগুলোর সারিতে নাম লেখাল।

কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি? এই ট্রেনটি চালাতে প্রয়োজন হবে না কোনো ওভারহেড বৈদ্যুতিক তার বা ডিজেল ইঞ্জিন। এটি নিজের বিদ্যুৎ নিজেই তৈরি করবে। কাজের প্রক্রিয়াটি বেশ আকর্ষণীয়:

  • ট্রেনে মজুত হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলের ভেতর বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে মিশে একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়।

  • এই প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন বিদ্যুৎ থেকেই ট্রেনের মোটর চলে।

  • সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই প্রক্রিয়ায় কোনো বিষাক্ত ধোঁয়া বা কার্বন নিঃসরণ হয় না; পরিবর্তে নির্গত হয় শুধুই পরিবেশবান্ধব জল ও বাষ্প।

দেশীয় প্রযুক্তি ও জ্বালানি ব্যবস্থা হায়দ্রাবাদের মেধা সার্ভো ড্রাইভস এবং কানাডার ব্যালার্ড পাওয়ার সিস্টেমসের সহযোগিতায় এই ট্রেন তৈরি করা হয়েছে। জিন্দ স্টেশনে স্থাপন করা হয়েছে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন রিফুয়েলিং স্টেশন, যেখান থেকে প্রতিদিন ৪২০-৪৩০ কেজি হাইড্রোজেন ট্রেনে ভরা সম্ভব। একবার ফুল চার্জে ট্রেনটি প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে পারবে।

২০৩০-এর লক্ষ্যমাত্রা ও গুরুত্ব ভারত সরকারের ২০৩০ সালের ‘নেট জিরো’ বা শূন্য কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্য অর্জনে এই প্রকল্পটি এক বিশেষ মাইলফলক। যদিও প্রতিটি ট্রেন তৈরিতে প্রায় ৮০ কোটি টাকা এবং পরিকাঠামোয় ৭০ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন, তবুও দীর্ঘমেয়াদী সাশ্রয় এবং পরিবেশ রক্ষায় এটি ভারতের পরিবহন ব্যবস্থায় এক নীরব বিপ্লব নিয়ে আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দ্রুতই সাধারণ মানুষের জন্য এই ট্রেন উন্মুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে।