মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য দুঃসংবাদ! ভারতের অন্যতম বৃহৎ টেলিকম সংস্থা এয়ারটেল (Airtel) তাদের প্রিপেইড প্ল্যানের দাম একধাক্কায় বাড়িয়ে দিয়েছে। কোনও আগাম ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে এই দাম বাড়ায় মাথায় হাত পড়েছে সাধারণ গ্রাহকদের। রিচার্জ করতে গিয়ে অনেকেই দেখছেন, পুরোনো সাশ্রয়ী প্ল্যানগুলি হয় উধাও হয়ে গেছে, নয়তো সেগুলোর দাম বাড়ানো হয়েছে।
দাম বাড়লেও বাড়েনি সুবিধা:
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এয়ারটেল তাদের সবথেকে জনপ্রিয় ৮৪-দিনের ভ্যালিডিটি সম্পন্ন প্ল্যানটির দাম সংশোধন করেছে। আগে যে প্ল্যানটি ৮৫৯ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তার জন্য গুণতে হবে ৮৯৯ টাকা। অবাক করার মতো বিষয় হলো, বাড়তি ৪০ টাকা দিলেও পরিষেবার ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। গ্রাহকরা আগের মতোই প্রতিদিন ১.৫ জিবি ডেটা, আনলিমিটেড কলিং এবং ১০০টি এসএমএস পাবেন। এছাড়া এয়ারটেল তাদের জনপ্রিয় ৭৯৯ টাকার প্ল্যানটি তালিকা থেকে সরিয়ে দিয়েছে, ফলে সস্তায় রিচার্জের সুযোগ আরও কমে গেল।
কেন এই মহার্ঘ্য ট্যারিফ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশজুড়ে ৫জি নেটওয়ার্কের পরিকাঠামো তৈরি এবং ক্রমবর্ধমান পরিচালন ব্যয় টেলিকম কোম্পানিগুলোর ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। সেই বাড়তি খরচের বোঝা এখন সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিবর্তনটি সবথেকে বেশি প্রভাব ফেলবে মধ্যবিত্ত ও গ্রামীণ ভারতের গ্রাহকদের ওপর, যাঁরা সাধারণত ২-৩ মাসের মেয়াদী বাজেট প্ল্যানের ওপর নির্ভর করেন।
আগামী দিনে কি দাম আরও বাড়বে?
টেলিকম মহলের ধারণা, এয়ারটেলের এই পথে শীঘ্রই পা বাড়াতে পারে রিলায়েন্স জিও (Jio) এবং ভোডাফোন আইডিয়া (Vi)। রাজস্ব বাড়াতে প্রতিটি সংস্থাই ধীরে ধীরে ট্যারিফ বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে। ফলে আগামী দিনে মোবাইল পরিষেবার খরচ আরও বাড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এমতাবস্থায়, রিচার্জ করার আগে এখন থেকে প্রতিটি প্ল্যান সাবধানে বেছে নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।





