২০২১ সালের নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় প্রাণ হারানো বাগুইহাটির বিজেপি কর্মী প্রসেনজিৎ দাসের স্মৃতি ফের উসকে দিল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। প্রসেনজিতের মৃত্যুর সিবিআই তদন্ত চললেও এখনও বিচার পায়নি পরিবার। এরই মধ্যে নিহত কর্মীর বৃদ্ধা মাকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল স্থানীয় তৃণমূল ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। সোমবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রাজারহাট-গোপালপুর এলাকা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
পরিবারের অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যায় ‘সলমন’ নামে এক তৃণমূল কর্মী প্রসেনজিতের মায়ের সঙ্গে চরম অসভ্য আচরণ করেন। অভিযোগ, তাঁকে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলা হয় যে ছেলের মৃত্যুর বিষয়ে মুখ খুললে তাঁরও একই পরিণতি হবে এবং ভোটের পর তাঁকে “দেখে নেওয়া” হবে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তরুণজ্যোতির ‘অ্যাকশন’:
খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছান রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি প্রার্থী তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তিনি মেজাজ হারিয়ে সরাসরি অভিযুক্ত সলমনের কলার ধরে টানতে টানতে বাগুইহাটি থানায় নিয়ে যান। সেই ভিডিও ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। থানায় অভিযুক্তর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পাশাপাশি প্রসেনজিতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
২০২১ সালের নির্বাচনের পরবর্তী হিংসায় নির্মমভাবে খুন করা হয়েছিল প্রসেনজিৎকে। আজ তার মা যখন বিচার পাওয়ার আশায় রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন, তখনও তাঁকে হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে—এটাই বর্তমান বাস্তবতা।
গতকাল কয়েকজন এসে সরাসরি হুমকি দিয়ে গেছে—“দাদার নামে কিছু বললে, তোকেও তোর ছেলের… pic.twitter.com/xDf2WEJ4XE
— Tarunjyoti Tewari (@tjt4002) April 20, 2026
নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে তরুণজ্যোতি তিওয়ারি লিখেছেন, “রাজারহাট-গোপালপুরে কোনও গুন্ডামি চলবে না। প্রত্যেক সন্ত্রাসের জবাব আইনের মাধ্যমে দেওয়া হবে।” স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁদের দাবি, এলাকায় প্রভাবশালী কিছু নেতার মদতে দীর্ঘদিন ধরে এই ‘ধমক-চমক’ সংস্কৃতি চলছে। ২০২১-এ নিজের বাড়ির বাইরে প্রসেনজিতের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ক্ষত আজও টাটকা, তার ওপর এই নতুন হুমকির ঘটনা রাজনৈতিক উত্তাপকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।





