টাকা হয়ে যাবে মূল্যহীন! ইলন মাস্কের ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে শোরগোল বিশ্বজুড়ে

ভবিষ্যতের পৃথিবীতে অর্থের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না—সম্প্রতি এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন বিশ্বের অন্যতম ধনকুবের ও প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার ইলন মাস্ক। এক্স প্রাইজ ফাউন্ডেশনের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান পিটার ডায়ামন্ডিসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাস্ক এমন এক ভবিষ্যতের ছবি তুলে ধরেছেন, যা আজকের প্রজন্মের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। মাস্কের মতে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এবং রোবোটিক্স বিশ্ব অর্থনীতির প্রচলিত সংজ্ঞাকে পুরোপুরি বদলে দেবে।
মাস্কের দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, অদূর ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উন্নত রোবট প্রযুক্তির প্রভাবে পণ্য ও পরিষেবার উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে যাবে। যখন যন্ত্রের মাধ্যমে সবকিছু তৈরি হবে, তখন উৎপাদন খরচ কার্যত শূন্যে নেমে আসবে। মাস্কের কথায়, “এত বিপুল পরিমাণ পণ্য ও পরিষেবা তৈরি হবে যে, মানুষের আর কাজ করার প্রয়োজন থাকবে না। যখন কোনো জিনিসের প্রাচুর্য চরমে পৌঁছায়, তখন তার দামও কমে যায়।” তিনি মনে করেন, মানুষের কায়িক শ্রমের ওপর নির্ভরশীলতা যখন শেষ হবে, তখন অর্থের বিনিময় মাধ্যম হিসেবে আর কোনো গুরুত্বই থাকবে না। মুদ্রার প্রচলিত ধারণাকে তিনি ‘অর্থহীন’ বলে অভিহিত করেছেন।
শুধু অর্থনৈতিক পরিবর্তন নয়, প্রযুক্তির দুনিয়াতেও আমূল বদল আসার কথা শুনিয়েছেন মাস্ক। তিনি দাবি করেছেন, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ মানুষের হাতে কোডিং করার প্রয়োজনই ফুরিয়ে যাবে। বর্তমানে Anthropic-এর ক্লদ কোড (Claude Code) বা OpenAI-এর কোডেক্স (Codex)-এর মতো এআই টুলগুলি যেভাবে কোডিং, সফটওয়্যার আর্কিটেকচার ম্যানেজমেন্ট এবং ত্রুটি সংশোধনের কাজ নিজে থেকেই করে ফেলছে, তা দেখে মাস্ক এই ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তাঁর মতে, এআই এখন সরাসরি অপ্টিমাইজড বাইনারি তৈরি করতে সক্ষম, যা প্রথাগত কোডিংকে অচল করে দেবে।
এই পরিবর্তনের ফলে মানব সভ্যতার এক বিশাল রূপান্তর ঘটবে। মাস্কের কথায়, ভবিষ্যতে মানুষের কাছে কাজ করা হবে একটি ‘ঐচ্ছিক বিষয়’ বা শখ মাত্র। মানুষ চাইলে নতুন কিছু সৃষ্টি করতে পারে, তবে জীবন ধারণের জন্য যে কঠোর পরিশ্রম বা আয়ের প্রয়োজনীয়তা—তা ইতিহাস হয়ে যাবে। যদিও মাস্কের এই দাবি নিয়ে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তি মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তবুও তাঁর এই ভবিষ্যদ্বাণী বর্তমানের দ্রুত পরিবর্তনশীল এআই দুনিয়ারই একটি প্রতিচ্ছবি। একদিকে যেখানে এআই-এর বিপদ নিয়ে বিতর্ক চলছে, অন্যদিকে মাস্কের এই ‘পোস্ট-স্কার্সিটি’ (প্রাচুর্যের পরবর্তী যুগ) অর্থনীতিতে মুদ্রার বিলুপ্তি এক নতুন দার্শনিক তর্কের সূত্রপাত করেছে। এটি কি প্রযুক্তির জয়গান, নাকি মানুষের কর্মসংস্কৃতির শেষ অধ্যায়? উত্তর দেবে সময়।