হরমুজ প্রণালী এবার মুক্ত! ট্রাম্পের ঘোষণার পর মোদীর স্বাগত বার্তা, শান্তি ফিরছে বিশ্ব অর্থনীতিতে?

পশ্চিম এশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল বিশ্ব। সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে, যাকে অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই শান্তি চুক্তি শুধু যুদ্ধের দামামা স্তব্ধ করবে না, বরং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যকেও তার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর বার্তায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত বিশ্বজুড়ে যে মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং অগণিত প্রাণহানির কারণ হয়েছিল, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে এই সমঝোতাকে স্বাগত জানাই।” মোদীর মতে, এই শান্তি শুধু ওই অঞ্চলের জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ ‘হরমুজ প্রণালী’র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই চুক্তির কোনো বিকল্প নেই।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে চলা মার্কিন-ইরান উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছিল, যার ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল আকাশচুম্বী। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ হ্যান্ডেলে নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের সাথে চুক্তিটি এখন সম্পন্ন হয়েছে। এই শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের কথা জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হতে চলেছে। চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, সোমবার রাত থেকেই সামরিক অভিযান বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, ৬০ দিনের এই পরিকল্পিত যুদ্ধবিরতি চলাকালীন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অন্যান্য বৃহত্তর কূটনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

যদিও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো পরবর্তী আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে, তবুও এই চুক্তিটি বিশ্বব্যাপী এক আশার সঞ্চার করেছে। এই খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে—তেলের দাম কমেছে এবং এশিয়ার শেয়ারবাজারের সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীও অবশিষ্ট অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির আশা ব্যক্ত করেছেন। শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার এই কূটনৈতিক প্রয়াস বিশ্ব অর্থনীতিকে এক গভীর মন্দার হাত থেকে রক্ষা করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।