‘টাকা দিয়ে রফা করার চেষ্টা’, কুনাল ঘোষের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আরজি করের নির্যাতিতার মায়ের

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ধর্ষণ ও খুনের শিকার হওয়া চিকিৎসকের পরিবার এবং তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের মধ্যেকার বিবাদ এখন তুঙ্গে। ওই ঘটনার তদন্ত নিয়ে কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা। তাঁর অভিযোগ, কুণাল ঘোষ নাকি তাঁদের টাকা দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
এই ঘটনায় একদিকে কুণাল ঘোষ নির্যাতিতার বাবার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন, অন্যদিকে নির্যাতিতার পরিবার দাবি করছে, তারা যা বলছে তা সত্যি এবং এই বিষয়ে তদন্ত হওয়া উচিত।
ঘটনার সূত্রপাত
গত বছর ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালে এক ট্রেনি চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের শিকার হন। সেই ঘটনার তদন্ত প্রথমে কলকাতা পুলিশ শুরু করলেও পরে তা সিবিআই-এর হাতে যায়। তবে নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, তারা সিবিআই তদন্তে খুশি নন।
এরই মাঝে নির্যাতিতার বাবা অভিযোগ করেছিলেন যে, সিবিআইকে টাকা দিয়ে তদন্ত ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। তিনি সরাসরি তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের নাম উল্লেখ করে বলেন, রাজ্য সরকারের হয়ে কুণাল ঘোষ সিবিআই-এর সঙ্গে বোঝাপড়া করেছিলেন। এই মন্তব্যের পরই কুণাল ঘোষ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন এবং পরে ব্যাঙ্কশাল আদালতে নির্যাতিতার বাবার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন।
পরিবারের পাল্টা অভিযোগ
কুণাল ঘোষের মামলার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা বলেন, “আমাদের কথা বিশ্বাস না হলে এই বিষয়টা নিয়েই তদন্ত হোক।” তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, কুণাল ঘোষ তাঁদের বাড়িতে না এলেও, ফোন করে নাকি বলেছিলেন, “আপনাদের এত টাকা দিচ্ছি, ব্যাপারটা মিটিয়ে নেবেন।”
নির্যাতিতার বাবাও জানান, কুণাল ঘোষ তাঁদের প্রচুর হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পাঠাতেন এবং পরামর্শ দিতেন যে তাঁরা সঠিক পথে আছেন না ভুল পথে। তবে টাকার প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, সেটি হোয়াটসঅ্যাপ কলে বলা হয়েছিল, যার কোনো রেকর্ডিং তাঁদের কাছে নেই।
কুণাল ঘোষের জবাব
নিজের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগের জবাবে কুণাল ঘোষ বলেন, “আমি নাকি ফোন করে করে রফার চেষ্টা করতাম। এতদিন পর বলছেন? কতটা মিথ্যা বলতে শিখলে এতদিন পর এটা বলা যায়।” তিনি আরও বলেন, “আপনার কাছে সমন যাবে। কোর্টে এসে দয়া করে এগুলো একটু মাননীয় বিচারককে দিন।” কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানান যে, যদি কোনো প্রমাণ থাকে, তবে তা কোর্টে পেশ করা হোক।
এই ঘটনা দুই পক্ষের মধ্যেকার আইনি ও রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।