হাওড়া-সল্টলেক রুটে এবার সরাসরি মেট্রো, সুবিধা বাড়লেও রুটি-রুজি হারাবেন অনেকে?

আগামীকাল, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে কলকাতার জন্য ‘ঐতিহাসিক উপহার’ আসছে। শহরের বুকে উদ্বোধন হতে চলেছে তিন তিনটি নতুন মেট্রো লাইন। এই মেট্রো পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে এক দিকে যেমন যাত্রীদের সুবিধা হবে, তেমনই অন্য দিকে এই রুটের উপর নির্ভরশীল বহু মানুষ তাঁদের রুটি-রুজি হারাবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কোন পথে কী পরিবর্তন?

 

  • হাওড়া-সেক্টর ফাইভ (গ্রিন লাইন): এই রুটে অনেক দিন ধরেই বাস ছিল একমাত্র ভরসা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগত গন্তব্যে পৌঁছাতে। নতুন মেট্রো চালু হলে হাওড়া থেকে মাত্র ১১ মিনিটে শিয়ালদহ পৌঁছানো যাবে এবং মাত্র ৩৫ মিনিটে সল্টলেক সেক্টর ফাইভে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাঁচবে। তবে এতে এই রুটে চলা বাস ও শাটলগুলির উপর নির্ভরশীল বহু মানুষের জীবিকা সঙ্কটে পড়তে পারে।
  • ডানকুনি থেকে সেক্টর ফাইভ: এতদিন ডানকুনি থেকে যে যাত্রীরা প্রতিদিন সেক্টর ফাইভে যেতেন, তাদের অভিযোগ ছিল যে ট্রেন কম। এখন শিয়ালদহ থেকে সরাসরি মেট্রো পরিষেবা চালু হওয়ায় তাদের আর বিধাননগর স্টেশনে নেমে বাস বা অটো ধরার জন্য ভিড় করতে হবে না।
  • বালি হল্ট-উল্টোডাঙা রুট: হাওড়া মেন ও কর্ড লাইনের যাত্রীদের সেক্টর ফাইভে যেতে অনেক সমস্যা হতো। তাদের বালি হল্টে নেমে সেখান থেকে বাস বা শাটল ধরতে হতো। এতে অনেকটা সময় নষ্ট হতো। নতুন মেট্রো চালু হলে এই রুটের বাস এবং শাটল গাড়িগুলির আয় অনেক কমে যেতে পারে।
  • সেক্টর ফাইভের অটো: বর্তমানে সেক্টর ফাইভ থেকে মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত হাতে গোনা কিছু অটো চলে। তবে হাওড়া থেকে সরাসরি মেট্রো চালু হলে সেক্টর ফাইভ মেট্রো স্টেশনে যাত্রীর ভিড় বাড়বে। এর ফলে অটোর সংখ্যাও বাড়তে পারে, যা এই রুটের বাসগুলির জন্য আরও বড়ো চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

নতুন মেট্রো পরিষেবাগুলি নিঃসন্দেহে যাত্রীদের জন্য সময় এবং খরচ বাঁচাবে। কিন্তু একই সাথে, এই রুটে যারা এত দিন ধরে পরিষেবা দিয়ে এসেছেন, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো।