রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয়ে গেল প্রশাসনিক মহলে বড়সড় রদবদল। সোমবার নবান্নের তরফে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যসচিব (Chief Secretary) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করছেন অভিজ্ঞ আইএএস আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। একই সঙ্গে প্রশাসনের আরেক হেভিওয়েট আধিকারিক দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে দিল্লিতে বদলি করা হয়েছে।
পেশাদারিত্বের পুরস্কার নবান্ন সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার প্রশাসনে গতি আনতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ‘পারফরম্যান্স’ বা কাজের দক্ষতাকে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে যে সমস্ত আমলা ও আধিকারিকরা কোনো রাজনৈতিক চাপের কাছে মাথা নত না করে নিরপেক্ষভাবে ও অসীম পেশাদারিত্বের সঙ্গে ভোট পরিচালনা করেছেন, তাঁদেরই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য বেছে নিচ্ছে সরকার। মনোজ আগরওয়ালকে এই শীর্ষ পদে বসানো সেই প্রক্রিয়ারই প্রথম বড় ধাপ বলে মনে করা হচ্ছে।
কে কোথায় গেলেন?
মনোজ আগরওয়াল: স্বচ্ছ ভাবমূর্তির এই দক্ষ অফিসার এবার থেকে নবান্নের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে কাজ করবেন। আমলা মহলে তাঁর কাজের গতি এবং নিরপেক্ষতা সর্বজনবিদিত।
দুষ্মন্ত নারিয়ালা: এতদিন রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মরত থাকলেও, তাঁকে এবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনিক রদবদলের অঙ্গ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত।
প্রশাসনের আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রদবদল আসলে এক বৃহত্তর পরিকল্পনার শুরু মাত্র। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথম দিন থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ‘লেটার বক্স’ হয়ে থাকা অফিসারদের বদলে যারা মাঠে নেমে কাজ করতে পারবেন, তাঁদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নবান্নের অলিন্দে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, খুব শীঘ্রই জেলাশাসক (DM) এবং পুলিশ সুপার (SP) স্তরেও একঝাঁক ‘প্রফেশনাল’ মুখকে নিয়ে আসা হবে।
আগামী লক্ষ্য নতুন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের কাঁধে এখন পাহাড়প্রমাণ দায়িত্ব। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো দ্রুত কার্যকর করা এবং প্রশাসনের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনাই হবে তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ।
সরকারের এই ‘শুদ্ধিকরণ’ অভিযান কি আমলাতন্ত্রে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে? আপনার মতামত আমাদের কমেন্টে জানান। নবান্নের প্রতিটি মুহূর্তের ব্রেকিং নিউজের জন্য চোখ রাখুন DailyHunt-এ।





