জোর করে কাজ করিয়ে পণ্য তৈরির অভিযোগ! ভারতের উপর ১০% শুল্ক আমেরিকার

জোর করে কাজ করিয়ে বা ‘ফোর্সড লেবার’ (Forced Labour) মারফত তৈরি করা পণ্যের ওপর এবার কঠোর শুল্ক বা ট্যারিফ বসাতে চলেছে আমেরিকা। ভারত সহ মোট ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী শনিবার সকাল ৯টা ৩১ মিনিট থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এই দেশগুলি জোর করে কাজ করিয়ে পণ্য তৈরি করলেও তা রুখতে এতদিন যথেষ্ট কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই নতুন নিয়মের ফলে ভারতীয় বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

তালিকায় কোন কোন দেশ?

সবথেকে উদ্বেগের বিষয় হল, এই শুল্কের তালিকায় নাম রয়েছে ভারতের। ভারত ছাড়াও আমেরিকা, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, ব্রিটেন, কানাডা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা সহ মোট ১৮টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান এবং সুইৎজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে শুল্কের হার হবে ১০ বা ১২.৫ শতাংশ। আর চিন-সহ বাকি ৩৮টি দেশের ওপর ১২.৫ শতাংশ হারে শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।

কেন এই সিদ্ধান্ত এবং আইনি প্রেক্ষাপট?

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আগের ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ (যার হার ছিল ১০ থেকে ৫০ শতাংশ) বাতিল করে দিয়েছিল। সেই ধাক্কা কাটিয়ে এবার নতুন আইনের ভিত্তিতে শুল্ক আরোপ করল ট্রাম্প প্রশাসন।

মার্কিন ট্রেড অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর সেকশন ৩০১ অনুযায়ী এই নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন ট্রেড রিপ্রেজেন্টিটিভ জেমিসন গ্রিয়ার এই প্রসঙ্গে বলেন, “প্রায় ১০০ বছর ধরে আমেরিকায় জোর করে কাজ করিয়ে তৈরি হওয়া পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আমরা তা কঠোরভাবে মেনে চলি। এবার আমাদের বাণিজ্য সঙ্গীদের ক্ষেত্রেও একইভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে।” তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্তরে মানবাধিকার রক্ষা করা সম্ভব হবে।

কোন কোন পণ্য থাকবে এই শুল্কের বাইরে?

সব পণ্যের ওপর এই নতুন শুল্ক প্রযোজ্য নয়। কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রকে এই নিয়মের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে:

  • তেল ও গ্যাস

  • সার

  • কিছু নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য

  • জাতীয় নিরাপত্তাজনিত কারণে আগে থেকেই শুল্কের আওতায় থাকা ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, তামা এবং মোটর গাড়ি।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেসব দেশের সঙ্গে তাদের আগে থেকেই বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই নতুন শুল্ক নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই আরোপ করা হবে।

আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে সমালোচনা

আমেরিকার এই একক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নরওয়ে জানিয়েছে, তারা আগেই জোর করে কাজ করিয়ে পণ্য তৈরির বিরুদ্ধে কঠোর নিয়ম চালু করেছে, ফলে এই নতুন শুল্কের কোনও যৌক্তিকতা নেই। পাশাপাশি, অস্ট্রেলিয়া এবং ব্রাজিলও এই পদক্ষেপকে ‘অযৌক্তিক’ বলে দাবি করেছে এবং এই ট্যারিফ প্রত্যাহারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানাবে বলে জানিয়েছে।