ইতিহাস গড়লেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! কোন শতাব্দীপ্রাচীন উৎসবে যোগ দিয়ে চরম চমক দিলেন রাজ্য সরকারের হেভিওয়েট মন্ত্রীরা?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। শুক্রবার রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার অত্যন্ত উচ্ছ্বাসের সাথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান যে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গুপ্তিপাড়ার ঐতিহ্যবাহী উল্টোরথ যাত্রায় সশরীরে অংশগ্রহণ করা সমগ্র রাজ্যবাসীর কাছে এক অত্যন্ত গর্বের ও ঐতিহাসিক বিষয়। তাঁর সুনির্দিষ্ট বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অধিকারী বাংলার বর্ণময় ইতিহাসে এই প্রথমবার খোদ কোনো মুখ্যমন্ত্রী এই সুপ্রাচীন ও புகழ்பெற்ற উৎসবে যোগ দিতে সশরীরে উপস্থিত হলেন।
এই প্রসঙ্গে বিস্তারিতভাবে আলোকপাত করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, “এই ধরনের বর্ণাঢ্য উৎসব গোটা ভারতের আর অন্য কোনো প্রান্তে জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হয় না। শুধুমাত্র হুগলি জেলার অন্তর্গত ঐতিহাসিক বলাগড় বিধানসভা কেন্দ্রের গুপ্তিপাড়াতেই এই অনন্য সংস্কৃতির দীর্ঘ ঐতিহ্য চলে আসছে। আর সেই কারণেই বাংলার সুদীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো মুখ্যমন্ত্রী গুপ্তিপাড়ার এই সুপ্রাচীন ঐতিহ্য স্বচক্ষে উপভোগ করতে আসছেন। এটা আমাদের সকলের জন্যই অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের বিষয় যে, রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অর্থমন্ত্রী ডঃ স্বপন দাশগুপ্ত এই বিশাল ও বর্ণাঢ্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সগৌরবে যোগ দিচ্ছেন।”
মন্ত্রীর অত্যন্ত জোরালো মতে, রাজ্যের বর্ণময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পরিসরে গুপ্তিপাড়ার এই ঐতিহ্যবাহী উল্টোরথ উৎসবের একটি সম্পূর্ণ আলাদা ও বিশেষ স্থান রয়েছে। উল্লেখ্য, ঠিক গত বৃহস্পতিবার উল্টোরথ যাত্রার আগের পবিত্র মুহূর্তে গুপ্তিপাড়ায় সাড়ম্বরে উদযাপিত হয়েছে সুপ্রাচীন ও বিখ্যাত ২৮৬ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী ‘ভান্ডার লুট’ প্রথা। এই বিশেষ ধর্মীয় ও সামাজিক আচারানুষ্ঠানে ঐতিহাসিক মন্দিরের মূল ভান্ডার থেকে পুণ্যময় প্রসাদের হাঁড়ি লুফে নেওয়ার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আসা অগণিত ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের বাঁধভাঙা ঢল নামে, যা সমগ্র পরিবেশকে এক অন্য মাত্রায় উন্নীত করে।
এদিকে, এই বিশেষ শুভলগ্নে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গ তাদের সরকারি এক্স হ্যান্ডেলে একটি সুনির্দিষ্ট পোস্টের মাধ্যমে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। সেই পোস্টে লেখা হয়েছে, “পবিত্র উল্টোরথ যাত্রার এই অত্যন্ত শুভলগ্নে সকল দেশবাসীকে আমাদের আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাই। মহাপ্রভু জগন্নাথদেবের পরম আশীর্বাদে প্রতিটি মানুষের প্রতিটি ঘরে চিরশান্তি, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য সর্বদা বজায় থাকুক। জয় জগন্নাথ!”
এর আগে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মহেশ, বলাগড়ের ঐতিহাসিক গুপ্তিপাড়া এবং চন্দননগর রথযাত্রা কমিটিকে উৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য ৫ লক্ষ টাকা করে বিশেষ আর্থিক সাহায্য হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবটি যাতে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয় এবং বিশাল শোভাযাত্রার পুরো রুটজুড়ে পর্যাপ্ত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও কড়া নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা যায়, সেই লক্ষ্যেই এই সরকারি অনুদান দেওয়া হয়েছে।
জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি উৎসবের আয়োজক কমিটি এবং সমস্ত স্বেচ্ছাসেবী দলকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বিশেষ করে উৎসবের গোটা সময় জুড়ে সাধারণ মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা এবং সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রস্তুতির ওপর সবথেকে বেশি জোর দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।