জেহাদি নেটওয়ার্কের খোঁজে মরিয়া NIA, পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ২০টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি

আইএসআইএস (ISIS) এবং আল-কায়দার জেহাদি মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগে দেশজুড়ে একযোগে বড়সড় অভিযান চালাল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের মোট ২০টি জায়গায় এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে এই অভিযানে নেমেছেন তদন্তকারীরা।

সূত্রের খবর, এই অভিযানের অন্যতম মূল লক্ষ্য ছিল বাঁকুড়ার খাতড়া। এখানে মির আসিফ আলি নামে এক যুবকের বাড়িতে তল্লাশি চালান NIA-র অফিসাররা। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মির আসিফ আলিকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জেহাদি নেটওয়ার্কের যে সমস্ত তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তার ভিত্তিতেই এই দেশব্যাপী অভিযান বলে জানা যাচ্ছে। তল্লাশিতে ধৃতের বাড়ি থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যা তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, NIA-র এই তল্লাশি অভিযান ছড়িয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, কর্ণাটক, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাত, রাজস্থান এবং দিল্লিতেও এদিন NIA হানা দেয়। মূলত জেহাদি মতাদর্শ ছড়িয়ে তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করা এবং দেশবিরোধী কাজে তাদের ব্যবহার করার যে ছক এই জঙ্গি সংগঠনগুলি তৈরি করেছিল, তার মূল শিকড় উপড়ে ফেলতেই এই অভিযান।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সক্রিয় ছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসে তারা কীভাবে নেটওয়ার্ক বিস্তার করছিল এবং কাদের মাধ্যমে অর্থায়ন হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই অভিযানে পাওয়া ডিজিটাল ডিভাইসগুলো ফরেন্সিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে আরও বড় তথ্য পাওয়ার আশা করছেন গোয়েন্দারা।

এই বড়সড় অভিযানে জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। দেশের ২০টি স্থানে একযোগে এই তল্লাশি প্রমাণ করে যে, জেহাদি মতাদর্শের জাল কত গভীরে ছড়িয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার খাতিরে NIA এই মুহূর্তে কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। আগামী দিনে এই তদন্তের গতিপ্রকৃতি যে আরও অনেককে জালে টানবে, তা বলাই বাহুল্য। ধৃত মির আসিফ আলিকে জেরা করে আরও কি কি তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই এখন নজর রাখছেন গোয়েন্দারা।