উইম্বলডনে ইতিহাস! ২৫ বছরের খরা কাটিয়ে ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি দিয়ে সেমিতে ব্রিটিশ তারকা আর্থার ফেরি

২০০১ সালে ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি নিয়ে উইম্বলডন জিতে টেনিস বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিলেন ক্রোয়েশিয়ার গোরান ইভানিসেভিচ। পঁচিশ বছর পর অল ইংল্যান্ড ক্লাবের ঘাসের কোর্টে যেন সেই ইতিহাসই নতুন করে লিখছেন গ্রেট ব্রিটেনের তরুণ তুর্কি আর্থার ফেরি। ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি হিসেবে মূলপর্বে সুযোগ পেয়েই তিনি পৌঁছে গেলেন উইম্বলডনের সেমিফাইনালে। ২০০১ সালের পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই অনন্য নজির গড়লেন ২৩ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ তরুণ।
কোয়ার্টার ফাইনালে ফেরি মুখোমুখি হয়েছিলেন ফ্ল্যাভিও কোবোল্লির। ফরাসি ওপেনের ফাইনালিস্ট কোবোল্লিকে কোনো সুযোগ না দিয়ে স্ট্রেট সেটে উড়িয়ে দেন ফেরি। মাত্র ২ ঘণ্টা ১৪ মিনিটের লড়াইয়ে ম্যাচের ফলাফল ছিল ৬-৪, ৭-৬(৪), ৬-০। এর আগে শেষ ষোলোর ম্যারাথন ম্যাচে পাঁচ সেটের লড়াইয়ে তিনি হারিয়েছিলেন বুলগেরিয়ান তারকা গ্রিগর দিমিত্রভকে। তার সেই দুর্দান্ত ফর্ম কোয়ার্টার ফাইনালেও বজায় থাকল।
আর্থার ফেরির এই সাফল্য ঐতিহাসিক। তিনি গ্রেট ব্রিটেনের প্রথম খেলোয়াড় যিনি ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি পেয়ে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করলেন। বিশ্বের ১১৪ নম্বর খেলোয়াড় হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে তিনি ওপেন এরায় পঞ্চম ব্রিটিশ খেলোয়াড় হিসেবে এই কীর্তি অর্জন করলেন। তাঁর আগে এই তালিকায় রয়েছেন রজার টেলর, টিম হেনম্যান, অ্যান্ডি মারে এবং ক্যামেরন নরি।
এখন ব্রিটিশ সমর্থকদের নজর ফেরির দিকেই। আর মাত্র দুটি ম্যাচ জিতলে ২০১৬ সালে অ্যান্ডি মারের পর ফেরিই হবেন প্রথম ব্রিটিশ খেলোয়াড়, যিনি উইম্বলডন ট্রফি উঁচিয়ে ধরবেন। তবে সেমিফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ বেশ শক্তিশালী। সেখানে তাঁকে লড়াই করতে হবে ফরাসি ওপেন জয়ী আলেকজান্ডার জেরেভের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, অন্য সেমিফাইনালে টেলর ফ্রিৎজকে ৬-৪, ৬-৪, ৬-২ সেটে হারিয়ে দাপটের সাথে ফাইনালে ওঠার বার্তা দিয়ে রেখেছেন জেরেভ।
উইম্বলডনের সেন্টার কোর্টে এদিন ফেরির গেমপ্লে ছিল দেখার মতো। দ্বিতীয় সেটে টাইব্রেকারে কোবোল্লি কিছুটা চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করলেও, ফেরি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় তা সামলে নেন এবং শেষ সেটে কোবোল্লিকে দাঁড়াতেই দেননি। এখন দেখার, ইভানিসেভিচের সেই রূপকথার মতোই আর্থার ফেরি উইম্বলডনের মুকুট পরতে পারেন কি না।