দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি মাত্র ৬ ঘণ্টায়! ভারতের দীর্ঘতম বুলেট ট্রেন করিডোর নিয়ে বড় ঘোষণা মোদী সরকারের

মুম্বাই-আমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পের সাফল্যের পথ ধরে এবার গোটা দেশকে হাই-স্পিড রেল নেটওয়ার্কে মুড়ে ফেলার ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বিশেষ করে দিল্লি এবং এনসিআর (NCR) অঞ্চলকে হাই-স্পিড রেলের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যে দিল্লি থেকে চারটি নতুন বুলেট ট্রেন করিডোর তৈরির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই করিডোরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং দীর্ঘতম রুটটি হলো দিল্লি-বারাণসী-শিলিগুড়ি হাই-স্পিড করিডোর। কেন্দ্রীয় বাজেটে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এই সাতটি হাই-স্পিড রেল করিডোরের জন্য প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে।
দিল্লি-বারাণসী করিডোরটি উত্তরপ্রদেশের ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও শিল্প নগরীগুলোকে এক সুতোয় গাঁথবে। এই রুটটি নয়ডা, জেওয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, মথুরা, আগ্রা, ফিরোজাবাদ, ইটাওয়া, কনৌজ, লখনউ, রায়বেরেলি, প্রয়াগরাজ ও বারাণসীর ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। প্রস্তাবিত এই রুটটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮১৩ থেকে ৮৬৫ কিলোমিটার হবে এবং এতে ১৩ থেকে ১৫টি স্টেশন থাকবে। আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন বুলেট ট্রেনগুলো ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার গতিবেগে চলবে। এর ফলে দিল্লি থেকে লখনউ পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট এবং দিল্লি থেকে বারাণসীর দূরত্ব মাত্র ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিটে সম্পন্ন হবে। এছাড়া, লখনউ থেকে অযোধ্যা পর্যন্ত ১২৪-১৩৫ কিলোমিটারের একটি পৃথক হাই-স্পিড লিঙ্কের পরিকল্পনাও খসড়ায় রাখা হয়েছে।
এই প্রকল্পের সিভিল স্ট্রাকচার বা পরিকাঠামোগত নকশার জন্য ন্যাশনাল হাই-স্পিড রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (NHSRCL) ইতিমধ্যেই দরপত্র আহ্বান করেছে। তবে প্রকল্পের সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশটি হলো দিল্লি-বারাণসী লাইনকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা। এটি শুধু উত্তর ভারতকে পূর্ব ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত করবে না, বরং সুদূর উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গেও যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করবে। এই লাইনটিকে ভবিষ্যতে আসামের গুয়াহাটি পর্যন্ত বাড়িয়ে নেওয়ার প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে।
পুরো রুটটি দিল্লি, নয়ডা, মথুরা, আগ্রা, লখনউ, বারাণসী হয়ে বক্সার, পাটনা, বেগুসরাই, খাগারিয়া, কাটিহার এবং নিউ জলপাইগুড়ি (শিলিগুড়ি) পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। করিডোরটির মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১,৭০৫ কিলোমিটার। বর্তমানে দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পৌঁছাতে ট্রেনে প্রায় ২০ ঘণ্টা সময় লাগে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেই সময় কমে মাত্র ৬ ঘণ্টায় নেমে আসবে। রেল মন্ত্রক বর্তমানে এই বিশালাকার প্রকল্পের সার্ভে ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ জোরকদমে চালাচ্ছে। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এটি একটি আমূল পরিবর্তন আনবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।