জলের তোড়ে ভেসে গেল বাইক! সাঁকো ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, বাংলার একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি

দক্ষিণবঙ্গজুড়ে চলা অবিরাম ও ভারী বৃষ্টির জেরে জনজীবন একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নদীগুলির জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করায় উত্তর ২৪ পরগনা থেকে শুরু করে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া—একাধিক জেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। কোথাও বাঁশের সাঁকো ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, তো আবার কোথাও সেতু জলের তলায় চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

স্বরূপনগরের ইছামতি নদীর উপর তৈরি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাঁশের সাঁকো মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ নদীর তীব্র স্রোত ও কচুরিপানার চাপে ভেঙে পড়ে। এই সাঁকোটি ইছামতির দুই পাড়ের জনপদ টিপি এবং কাটাবাগান এলাকার মধ্যে সংযোগ রক্ষা করত। প্রতিদিন এই সাঁকোর উপর দিয়ে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ, ছাত্রছাত্রী, অসুস্থ রোগী, কৃষক ও অফিসযাত্রীরা যাতায়াত করতেন। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় দুই পাড়ের লক্ষাধিক মানুষ সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কবলে পড়েছেন। বাধ্য হয়েই স্কুলপড়ুয়া ও রোগীরা ৩০ কিলোমিটার ঘুরপথে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ, বহু বছর ধরে এখানে একটি স্থায়ী কংক্রিট সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেবল আশ্বাসই মিলেছে, কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

অন্যদিকে, লাগাতার বৃষ্টির কারণে দারকেশ্বর নদীর কেঞ্জাকুড়া সেতুটি সম্পূর্ণ জলের তলায় তলিয়ে গিয়েছে। এর ফলে কেঞ্জাকুড়া থেকে কমলপুর হয়ে পুরুলিয়া যাতায়াতের একমাত্র সহজ রাস্তাটি বন্ধ হয়ে গেছে। ওপারের মানুষদের এই সামান্য দূরত্ব অতিক্রম করতে এখন ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ ঘুরে আসতে হচ্ছে।

পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বাঁকুড়া জেলায়। গন্ধেশ্বরী নদীর জলস্তর বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় মানকানালী সেতু জলের তলায় চলে গিয়েছে। এই সেতুর উপর দিয়েই বাঁকুড়া থেকে মানকানালী হয়ে রানিগঞ্জ যাতায়াত করা হতো। জলমগ্ন সেতুর উপর দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় একটি ভারী ডাম্পার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। সেতুটির উপর দিয়ে জল বইতে থাকায় আপাতত সমস্ত ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে, যার ফলে আটকে পড়েছে একাধিক বাস ও ট্রাক।

জলমগ্ন পরিস্থিতির জেরে চরম মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে পুরুলিয়া জেলায়। মঙ্গলবার সকালে সাতুড়ি থানার অন্তর্গত সুভাষ রোডের কোটালডি রেলগেটের কাছে রাস্তার উপর দিয়ে প্রবল বেগে জল বইছিল। সেই জলস্রোতের তোড়েই বাইক নিয়ে ভেসে যান এক চালক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের ও সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।