পৌরাণিক আবহে এবার রক্তগঙ্গা! রোহনের র-অ্যাকশনে বড়পর্দায় ঝড় তুলতে আসছে নতুন মেগা থ্রিলার ‘দশানন’

বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বড় পর্দায় এবার এমন এক অভিনব গল্পের দেখা মিলতে চলেছে, যেখানে প্রাচীন পৌরাণিক আবহ ও শিকড়ের গন্ধের সঙ্গে নিপুণভাবে মিশে যাবে র-অ্যাকশন, টানটান থ্রিল এবং আধুনিক কমার্শিয়াল ছবির সমস্ত মশলা। স্পর্শ এন্টারটেইনমেন্ট প্রোডাকশন হাউসের ব্যানারে তৈরি হওয়া নতুন মেগা প্রজেক্ট ‘দশানন’ ছবিটিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সিনেপ্রেমী মহলে চরম কৌতূহল এবং উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। মিথোলজি এবং ফিউশন অ্যাকশন থ্রিলারের এক অপূর্ব মিশ্রণে তৈরি হতে চলা এই বহুমুখী সিনেমাটি বাংলা বিনোদন জগতের অন্যতম বড় মাপের মাস এন্টারটেইনার হতে চলেছে বলেই মনে করছেন ট্রেড অ্যানালিস্টরা।
এই বিশাল পরিসরের ভাবনাকে বড়পর্দায় সার্থকভাবে রূপায়নের মূল দায়িত্বে রয়েছেন পরিচালক সপ্তাশ্ব বসু। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে এক নতুন ও তেজস্বী তরুণ নায়ক হিসেবে টলিপাড়ায় আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা রোহন ভট্টাচার্য। তাঁর বিপরীতে স্ক্রিন শেয়ার করতে দেখা যাবে প্রতিভাবান অভিনেত্রী পিয়ালি চ্যাটার্জীকে। পৌরাণিক পটভূমির সঙ্গে আধুনিক অ্যাকশন থ্রিলারের ভাষাকে কীভাবে মেলবন্ধন ঘটানো যায়, সেই অভিনব প্রচেষ্টাই ‘দশানন’-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে চলেছে। ছবির প্রতিটা ফ্রেমে দর্শক টানটান উত্তেজনার অভিজ্ঞতা লাভ করবেন।
ছবিতে থাকছে একাধিক রোমহর্ষক ও রুদ্ধশ্বাস ফাইট সিকুয়েন্স। শুধুমাত্র মারপিট বা অ্যাকশনই নয়, এর পাশাপাশি চিত্রনাট্যে থাকবে নিখাদ ড্রামা এবং দর্শকের মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো হৃদয়গ্রাহী কিছু সুরের গান। অর্থাৎ ভরপুর বিনোদনের সমস্ত উপাদানকে একসঙ্গে এক ফ্রেমে বেঁধে তৈরি হচ্ছে এই প্রজেক্ট। ছবিটির ক্রিয়েটিভ প্রোডিউসারের দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সামলাচ্ছেন অপালা চৌধুরী এবং এর মনমাতানো সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন সুরকার ঈশান মিত্র। এছাড়াও, ‘দশানন’ সগর্বে নিবেদন করছেন সরফরাজ আহমেদ, অভিষেক কুমার সিং এবং তন্ময় ঘোষের মতো বিশিষ্ট প্রযোজকরা।
এই ভিন্নধর্মী প্রজেক্টের অংশ হতে পেরে অভিনেতা রোহন ভট্টাচার্য নিজেও যথেষ্ট উচ্ছ্বসিত ও রোমাঞ্চিত। তাঁর মতে, তিনি বরাবরই একটি পূর্ণাঙ্গ কমার্শিয়াল মেইনস্ট্রিম ছবিতে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করতেন। সেই দিক থেকে ‘দশানন’ তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা ও বিশেষ সুযোগ। ছবিতে টানটান অ্যাকশন, জমাটি ড্রামা এবং হিট গান—সবকিছুরই নিখুঁত সংমিশ্রণ রয়েছে। বিশেষ করে ছবিটির একাধিক কঠিন ফাইট সিকুয়েন্সের জন্য শুটিং শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই নিজেকে কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে প্রস্তুত করছেন এই তরুণ অভিনেতা। শারীরিক ফিটনেস থেকে শুরু করে মানসিক দৃঢ়তা—সবকিছুর জন্যই তিনি একশো শতাংশ পরিশ্রম করতে প্রস্তুত।
রোহনের কাছে আরও একটি বিষয় এই ছবিটিকে অত্যন্ত স্পেশ্যাল করে তুলেছে। তাঁর মতে, একটি সম্পূর্ণ নতুন এবং উদ্যমী টিমের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি এমন একটি চমৎকার গল্প ও জঁরার অংশ হতে পেরে তিনি আনন্দিত, যা এর আগে বাংলা বাণিজ্যিক ছবিতে সেভাবে দেখা যায়নি। তাই তাঁর কাছে ‘দশানন’ নিছকই আর দশটা সাধারণ ছবি নয়, বরং নতুন কিছু করে দেখানোর এক দুর্দান্ত সুযোগ। ছবির এই আকর্ষণীয় নামটি নিয়েও অভিনেতার মনে বিশেষ ভালোলাগা রয়েছে। সবমিলিয়ে, পৌরাণিক শিকড়, আধুনিক অ্যাকশনের গতি এবং বাণিজ্যিক ছবির যাবতীয় মশলা এক ফ্রেমে আসার এই মহোৎসব শেষ পর্যন্ত বক্স অফিসে কতটা ঝড় তোলে, সেটাই এখন দেখার।