জম্মুতে কাশ্মীর টাইমস অফিসে SIA-এর অভিযান, একে-৪৭ কার্তুজ ও গ্রেনেড উদ্ধার, বিতর্কের মুখে তদন্তকারী সংস্থা

জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (SIA)-এর একটি দল বৃহস্পতিবার জম্মুর ‘কাশ্মীর টাইমস’ (Kashmir Times) অফিসে অভিযান চালিয়েছে। এই অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া না গেলেও, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, উমর খালিদ, শারজিল ইমাম-সহ দেশজুড়ে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের প্রস্তুতির তথ্য অনুসন্ধানের জন্যই এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। গোয়েন্দাদের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, ফরিদাবাদের চিকিৎসকদের মডিউলের সঙ্গে কাশ্মীরের যোগ ক্রমশই প্রকট হচ্ছে।

অস্ত্র উদ্ধার ও দেশবিরোধী কাজের অভিযোগ:

SIA সূত্রে খবর, কাশ্মীর টাইমস-এর অফিস থেকে একে-৪৭-এর কার্তুজ, পিস্তল রাউন্ডস এবং তিনটি গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে। SIA-এর অভিযোগ, সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী কাজকর্মে মদত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যদিও সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, এটি তাদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা।

উপ-মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বান ও রাজনৈতিক সমালোচনা:

জম্মু ও কাশ্মীরের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরী তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে সংবাদ সংস্থা ‘বেছে বেছে’ অভিযান না চালানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “সংস্থাগুলো তাদের কাজ করছে। যদি অভিযান চালাতেই হয়, তবে তা বেছে বেছে করা উচিত নয়। যদি তারা কোনো ভুল করে থাকে, তবে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, কিন্তু শুধু চাপ সৃষ্টির জন্য নয়। সংবাদমাধ্যম হলো চতুর্থ স্তম্ভ, এবং সাংবাদিকতা করার জন্য তাদের জায়গা দেওয়া উচিত।”

জম্মু ও কাশ্মীর পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (JKPDP) যুব প্রধান আদিত্য গুপ্তও এই অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে ‘কাশ্মীর টাইমস’-কে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের “সবচেয়ে সাহসী কণ্ঠ” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি এক্স-এ লিখেছেন যে, প্রতিষ্ঠাতা বেদ ভাসিন নির্ভীক ও সত্যবাদী ছিলেন এবং তাঁর মেয়ে অনুরাধা ভাসিন সেই ঐতিহ্যকে দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

সংবাদপত্রের ইতিহাস ও আইনি লড়াই:

কাশ্মীর টাইমস পত্রিকাটি ১৯৫৪ সালে বেদ ভাসিন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এটি জম্মু ও কাশ্মীর থেকে প্রকাশিত প্রাচীনতম ইংরেজি ভাষার দৈনিক সংবাদপত্র হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে এটি ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া ফর্ম্যাটে চলছে। পত্রিকার সম্পাদক অনুরাধা ভাসিন অনুরাধা ভাসিন বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া মামলারও আবেদনকারী ছিলেন। এই যুগান্তকারী মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ইন্টারনেট বন্ধ করার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় জারি করেছিল।