জঞ্জালের স্তূপে জলপাইগুড়ি! পুরসভার ‘জিরো টলারেন্স’ কি পারবে দূষণ রুখতে?

জলপাইগুড়ি শহরের বর্তমান চেহারা যেন এক বিরাট আবর্জনার স্তূপ। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে ২ নম্বর ওয়ার্ডের রাজবাড়ি দিঘির পাড়ের মতো জনবহুল এলাকায় জঞ্জাল সাফাই নিয়ে নাগরিক ক্ষোভ এখন চরমে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরসভার গাফিলতি এবং জনসচেতনতার অভাব—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে শহর আজ দূষণের কবলে। ভ্যাটের গাড়ি থাকা সত্ত্বেও রাস্তার যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলার প্রবণতা শহরবাসীর স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। দুর্গন্ধে ওই এলাকায় মানুষের চলাচল করাই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুরসভার সাফাই কর্মীরা নিয়ম মেনে বাড়ি বাড়ি থেকে জঞ্জাল সংগ্রহ করলেও, ভ্যাটের গাড়িতে তা ফেলার ক্ষেত্রে রয়েছে বিস্তর অনিয়ম। ফ্ল্যাট বাড়ির বাসিন্দাদের একাংশও নির্ধারিত স্থানে আবর্জনা না ফেলে গাড়ির বাইরেই ফেলে রাখছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নড়েচড়ে বসেছে জলপাইগুড়ি পুরসভা।

পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় সাফাই ব্যবস্থার বর্তমান বেহাল দশা নিয়ে কড়া মনোভাব গ্রহণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে পুরসভা এখন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছে। চেয়ারম্যান বলেন, “শহরের সাফাইয়ের দায়িত্ব একটি বেসরকারি সংস্থাকে দেওয়া রয়েছে। কিন্তু কাজে গাফিলতির যে অভিযোগ আমার কাছে আসছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি দ্রুত ওই সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনায় বসব। যদি কাজের মান না বদলায়, তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থার টেন্ডার বাতিল করা হবে।”

শুধু বেসরকারি সংস্থা নয়, সাফাই কর্মীদের কাজেও শৈথিল্য থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, তিনি শহরবাসীর প্রতি আবেদন জানিয়েছেন যে, সচেতনতা ছাড়া শহরকে পরিষ্কার রাখা অসম্ভব। যেখানে-সেখানে আবর্জনা না ফেলার জন্য তিনি নাগরিকদের সতর্ক করেছেন। পুরসভার পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, নিয়ম ভেঙে যত্রতত্র জঞ্জাল ফেললে ভবিষ্যতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এখন দেখার বিষয়, চেয়ারম্যানের এই কড়া হুঙ্কার শহরকে জঞ্জালমুক্ত করতে কতটা কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।