ধর্মনতলায় ধুন্ধুমার! প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে ককরোচ জনতা পার্টির মিছিল ঘিরে রণক্ষেত্র কলকাতা, গ্রেফতার ১৪

প্রশ্ন ফাঁস ও শিক্ষাক্ষেত্রে চরম দুর্নীতির প্রতিবাদে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র সমর্থনে কলকাতায় আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও জমায়েতকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা ও হিংসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে গত শুক্রবারের এই তাণ্ডবলীলায় আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। সংবাদিক নিগ্রহ, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং পুলিশের ওপর প্রাণঘাতী হামলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই মামলায় নতুন করে আরও ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সবমিলিয়ে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত মোট ১৪ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার ধর্মতলার এই অশান্ত ও নজিরবিহীন পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার ডোরিনা ক্রসিং চত্বরে পূর্বানুমতি ছাড়াই এক বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি ও জমায়েতের আয়োজন করা হয়েছিল। পুলিশের তরফ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করে জানানো হয়েছে যে, সিজেপি ছাড়াও এই আন্দোলনে এআইডিএসও, এআইডিওয়াইও, সিপিআই(এম-এল), ডিওয়াইএফআই, এআইএসএ, পিডিএসএফ, এএফএসএ, ডিএসএফ, আইএসইউ এবং এপিডিআর-সহ একাধিক বাম ও উগ্রপন্থী সংগঠনের নেতৃত্ব ও বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক বিনা অনুমতিতে জওহরলাল নেহরু রোড ও রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থল ডোরিনা ক্রসিং পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে দেন। বিক্ষোভকারীরা হাতে পতাকা, ব্যানার এবং গাড়ি নিয়ে রাস্তা সম্পূর্ণ দখল করে উচ্চস্বরে মাইক্রোফোনে প্ররোচনামূলক বক্তব্য রাখতে শুরু করেন। পুলিশের সুনির্দিষ্ট দাবি, ওই সমস্ত বক্তব্যে সাধারণ জনতাকে উসকে দিয়ে জোরজবরদস্তি পুরো ডোরিনা ক্রসিং এলাকা দখল করে নেওয়ার সরাসরি আহ্বান জানানো হয়েছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার মাইকিং করে ওই জমায়েতকে সম্পূর্ণ বেআইনি বলে ঘোষণা করা হয় এবং অবিলম্বে শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও বিক্ষোভকারীরা তা পুরোপুরি উপেক্ষা করেন। এর পরিবর্তে উত্তেজিত জনতা কর্তব্যরত পুলিশকর্মী, সংবাদমাধ্যমের নিরপরাধ প্রতিনিধি এবং সাধারণ পথচারীদের লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো জলভর্তি বোতল, জুতো, লাঠি এবং ইট-পাথর ছুড়তে শুরু করেন। এই হঠাৎ হামলায় বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী গুরুতর জখম হন বলে এফআইআরে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ভয়ঙ্কর তাণ্ডবের পর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেআইনি জমায়েত করা, বেআইনি জমায়েত থেকে অপরাধ সংঘটিত করা, তীব্র অশান্তি ছড়ানো, সরকারি কর্মীদের সরকারি ডিউটি পালনে বাধা দেওয়া এবং তাদের শারীরিকভাবে মারধর করা, ব্যস্ত রাজপথ অবরুদ্ধ করা, জনমানসে শান্তি বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে প্ররোচনা ও বিদ্বেষ ছড়ানো, সরকারি আদেশ অমান্য করা এবং যৌথ অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো অত্যন্ত গুরুতর ও অ জামিনযোগ্য একাধিক অপরাধের ধারা আনা হয়েছে। শহরের বুকে এভাবে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে তাণ্ডব চালানোর ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা বাকি উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে লাগাতার তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।