১০ বছর পর ফের বিদেশের চিনি! উৎসবের মুখে দাম কি কমবে? জানুন বড় আপডেট

প্রায় এক দশকের দীর্ঘ বিরতির পর আবারও চিনির আমদানির পথে হাঁটছে ভারত। উৎসবের মরসুমের মুখে দেশের বাজারে চিনির অগ্নিমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় সরকার প্রায় ১০ লক্ষ টন অপরিশোধিত চিনি (raw sugar) শূন্য শুল্কে আমদানির পরিকল্পনা করছে। মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যে চিনির এক্স-মিল দাম বর্তমানে প্রতি কুইন্টালে ৫,৪০০ থেকে ৫,৫৬০ টাকায় পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের পকেটে বড়সড় টান দিচ্ছে। মার্চ ২০২৬ থেকেই চিনির দামের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট তৈরি হয়েছে চাহিদার তুলনায় অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ঘাটতির কারণে। অক্টোবর ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া ২০২৫-২৬ সিজনে ভারতের চিনির উৎপাদন চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার শুরুতে রপ্তানির অনুমতি দিলেও, পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে রপ্তানি বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ইতিমধ্যে দেশের বাইরে প্রায় ৮ লক্ষ টন চিনি চলে যাওয়ায় মজুত ভাণ্ডারে টান পড়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে হাতে থাকা স্টক আগামী মরসুমের শুরুর দিকে চিনির ঘাটতির অশনিসংকেত দিচ্ছে। ভারতে সাধারণত ৬ মাস বা অন্তত তিন মাসের চাহিদার সমান প্রায় ৬০ লক্ষ টন মজুত রাখার নিয়ম থাকলেও, বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ৩৫-৩৯ লক্ষ টনে।
তবে আমদানির খবরেই বাজারে স্বস্তি আসবে কি? বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ১০ লক্ষ টন চিনি আমদানি হলেও দাম খুব দ্রুত পড়ার সম্ভাবনা কম। সর্বোচ্চ কুইন্টাল প্রতি ৫০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমতে পারে। মিলগুলোর উৎপাদন খরচ যেখানে ৪,২০০-৪,৩০০ টাকা, সেখানে এই আমদানি চিনির বাজারে ভারসাম্য ফেরানোর একটি প্রচেষ্টা মাত্র। অন্যদিকে, ভারতের এই সিদ্ধান্তের আঁচ লেগেছে আন্তর্জাতিক বাজারেও। ভারতের চাহিদা বাড়ার খবরে নিউইয়র্কে চিনির দাম ১৪ মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে (১৭.৪৭ সেন্ট প্রতি পাউন্ড) পৌঁছেছে। এখন দেখার বিষয়, সরকারের এই কৌশল উৎসবের মরসুমে মিষ্টান্নপ্রিয় ভারতবাসীকে কতটা স্বস্তি দিতে পারে।