বদলাতে পারে আমেরিকার ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি? ওমর আবদুল্লাহর সাথে বৈঠকের পর বড় ইঙ্গিত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

একদিনের ঝটিকা সফরে বৃহস্পতিবার লাদাখের লেহ-তে পৌঁছালেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। প্রথমে এই সফর বাতিল হওয়ার খবর চাউর হলেও, সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে জম্মু-কাশ্মীর হয়েই তিনি পৌঁছে যান লাদাখে। রাষ্ট্রদূত হিসেবে এটাই তাঁর প্রথম লাদাখ সফর। বুধবার শ্রীনগরে পৌঁছানোর পর থেকেই তিনি জম্মু-কাশ্মীরের নানা দিক খতিয়ে দেখছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সফরে ধর্মগুরু দলাই লামার সঙ্গে তাঁর একান্ত বৈঠক হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

সফরের শুরুতেই সার্জিও গোর মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর সরকারি বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সৌজন্যমূলক বৈঠক করেন। বৈঠকের পর এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে গোর স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “জম্মু-কাশ্মীর ভারতের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এটি একটি অত্যন্ত সুন্দর জায়গা।” তাঁর এই মন্তব্যের পরই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পাকিস্তান তড়িঘড়ি ইসলামাবাদে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের ইন-চার্জ নাতালি বেকারকে তলব করে এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। উল্লেখ্য, গোর ট্রাম্প প্রশাসনের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিশেষ দূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

এই সফরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো মার্কিন ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি পর্যালোচনার সম্ভাবনা। গোর জানিয়েছেন, জম্মু-কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত করতে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, “আমরা নিয়মিত আমাদের ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি পর্যালোচনা করি। এখানে পরিস্থিতির উন্নতি দেখে মনে হচ্ছে, আমরা এই সতর্কবার্তার মাত্রা কমানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে পারি।” তাঁর এই ইতিবাচক ইঙ্গিত পর্যটন শিল্পের জন্য বড় সুখবর হতে পারে। তিনি আরও যোগ করেন যে, অনেক মার্কিন পর্যটক কাশ্মীরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আগ্রহী।

রাজনৈতিক বৈঠকের বাইরেও সার্জিও গোর শ্রীনগরের বিখ্যাত ডাল লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভোলেননি। নেহরু পার্কের কাছ থেকে একটি শিকারা ভাড়া করে প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে ডাল লেকের শান্ত জলে ভেসে বেড়ান তিনি। স্থানীয় সংস্কৃতি এবং কাশ্মীরের মনোরম আবহাওয়া তাঁকে মুগ্ধ করেছে বলে জানা গিয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, সার্জিও গোরের এই সফর কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত নয়, বরং ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের একটি বড় ধাপ। পাকিস্তান যতই এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হোক না কেন, ভারত ও আমেরিকার ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা যে এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে, তা বলাই বাহুল্য। লাদাখ সফর শেষে গোর কী বার্তা দেন, সেদিকেই এখন তাকিয়ে কূটনৈতিক মহল।