‘চোর-লম্পট’ কটাক্ষে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি! শুভেন্দুর চোখ নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে তৃণমূল নেতা, পালটা তোপ বিজেপির

উৎসবের আবহেও বঙ্গে রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের সূত্র ধরে তাঁকে সরাসরি আক্রমণ করলেন চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার। একইসঙ্গে, হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নিজের ঠান্ডা লড়াই নিয়েও মুখ খুললেন তিনি।
শুভেন্দুকে চরম আক্রমণ অসিত মজুমদারের
সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “নন্দীগ্রামে হারিয়েছি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে, ভবানীপুরেও হারাব।” বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অসিত মজুমদার।
তৃণমূল বিধায়ক শুভেন্দুকে নিশানা করে বলেন, “ও যদি বাপের ব্যাটা হয়, ভবানীপুরে দিদির বিরুদ্ধে দাঁড়াক। নন্দীগ্রামে চুরি করে জিতেছে। একটা চোর লম্পট। ওর কথাবার্তা দেখুন। যখন কথা বলে চোখ গুলো দেখবেন।”
পাল্টা তোপ বিজেপির
তৃণমূল বিধায়কের এই ব্যক্তিগত আক্রমণের কড়া জবাব দিয়েছে বিজেপি। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য স্বপন পাল বলেন, চুঁচুড়ার বিধায়ক যদি বিরোধী দলনেতাকে ‘হাফ পাগল’ বলেন, তাহলে তাঁর (অসিতের) ‘দিদি’ (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) বা শ্রীরামপুরের ‘দাদা’ই (সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়) বা কী?
চুরির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “চুরিতে ওঁরা (তৃণমূল) পিএইচডি করেছেন। বালি, পাথর, গরু, চাকরি চুরি। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার চুরি করেছেন। এর জবাব মানুষই দেবে এবার ভোটে।”
সাংসদ-বিধায়কের ‘ঠান্ডা লড়াই’ প্রকাশ্যে
এদিকে, হুগলিতে তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদারের মধ্যে চলা ‘ঠান্ডা লড়াই’ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের এক মঞ্চে বা অসিতের বিধানসভা এলাকায় রচনার উপস্থিতি দেখা যায়নি।
সম্প্রতি দলের নতুন শহর সভাপতি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে (ডাক নাম ‘ফণি’) পাশে নিয়ে বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে সাংসদ রচনা ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন— “ফণির দিকে নজর দিলে ফণি ফনা দিয়ে ছোবল মারবে।” তৃণমূলের অন্দরের খবর, বিধায়কের ঘনিষ্ঠ একজনকে সরিয়ে সাংসদের উদ্যোগেই ফণিকে শহর সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে, ভাইফোঁটার সকালে অসিত মজুমদার বলেন, “রচনা আমার বোনের মতো। ও সুস্থ থাকুক, ভালো থাকুক। এখানে থাকলে নিশ্চই ভাইফোঁটা দিত। এক পরিবারে ভাইবোনে ঝগড়া অশান্তি হয়, আবার ঠিক হয়ে যায়।” তবে, রাজনৈতিক স্বার্থের সংঘাতের ক্ষেত্রে এই ‘ঠিক হয়ে যাওয়া’ কতটা সম্ভব, সেই প্রশ্ন অবশ্য থেকেই যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ভাইফোঁটার দিনে চুঁচুড়া প্রিয়নগরে তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে তাঁকে ফোঁটা দিতে আসেন দলের মহিলা কর্মীরা। তাদের মধ্যে ছিলেন প্রবীণ কর্মী নমিতা ঘোষ। তিনি জানান, দাদা প্রথমবার জেতার পর থেকেই তিনি ফোঁটা দিয়ে আসছেন এবং ঈশ্বরের কাছে তাঁর সাফল্য কামনা করেন।