“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতীকে নয়, আমার জনপ্রিয়তায় জিতেছি!” বিস্ফোরক রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়

রাজনীতির আঙিনায় পা রাখার পর থেকেই শিরোনামে রয়েছেন হুগলির সাংসদ তথা জনপ্রিয় অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে সদ্য NCPI-তে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তৃণমূল নেতাদের তোপের মুখে পড়েছেন তিনি। মহুয়া মৈত্র থেকে কুণাল ঘোষ—প্রত্যেকেই তাঁর বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। কিন্তু এতদিন চুপ থাকার পর এবার টিভি ৯ বাংলার পর্দায় বিস্ফোরক মন্তব্য করে শোরগোল ফেলে দিলেন ‘দিদি নম্বর ১’। সাফ জানালেন, শুধুমাত্র তৃণমূলের লোগো বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ দেখে হুগলি আসেনি, জয়ের নেপথ্যে তাঁর নিজস্ব স্টারডম বড় ফ্যাক্টর।

সাংসদের কথায়, “সবাই বলছে তৃণমূলের লোগো এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখের জন্যই আমরা জিতেছি। দিদি অবশ্যই বড় ফ্যাক্টর, কিন্তু রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে হুগলি কেন্দ্রটি জয় করা সম্ভব হতো না।” রচনার দাবি, তৃণমূলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোটের ময়দানে এমন একজনকে দরকার ছিল যিনি লকেট চট্টোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট বিজেপি প্রার্থীকে টক্কর দিতে পারেন। সেই কারণেই তাঁর জনপ্রিয়তা ও সেলিব্রেটি স্ট্যাটাসকে সুকৌশলে ব্যবহার করেছেন তৃণমূল নেত্রী।

রচনার চাঁছাছোলা প্রশ্ন, “তৃণমূল সুপ্রিমো কি আমায় ব্যবহার করেননি? তাহলে গড়িয়াহাট বা ফুটপাথ থেকে কাউকে তুলে নিয়ে গিয়ে কেন হুগলিতে দাঁড় করালেন না? রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর দরকার ছিল। শুধু তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে অন্য কাউকে দাঁড়া করালে এই কেন্দ্র থেকে জেতা অসম্ভব ছিল।” তাঁর এই মন্তব্য যে রাজ্যের রাজনীতির অন্দরমহলে বড়সড় ঢেউ তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।

স্মরণ করা যেতে পারে, এক সময় রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঞ্চালিত শো ‘দিদি নম্বর ১’-এ এসে রুটি বেলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছিল। সেই সময় রচনার কৃতজ্ঞতাও ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু রাজনীতির অলিগলি বদলের সঙ্গে সঙ্গেই সমীকরণ বদলে গিয়েছে। দলবদলের পর এখন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে আক্ষেপের সুর। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, তৃণমূল সরকারের আমলের বালিচুরি, কয়লাচুরি বা মাটিচুরির মতো দুর্নীতির অভিযোগগুলো সম্পর্কে আগে জানলে তিনি হয়তো কখনোই তৃণমূলের রাজনীতিতে যোগদান করতেন না।

রাজনীতিতে আসার পর থেকে রচনার এই অবস্থান পরিবর্তন দলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়াবে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে তৃণমূল নেতাদের কটাক্ষ, অন্যদিকে রচনার এই একের পর এক বিস্ফোরক বয়ান—সব মিলিয়ে হুগলির সাংসদ এখন বাংলার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার পর রচনা যেভাবে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছেন, তা আগামী দিনে শাসকদলের সঙ্গে তাঁর সংঘাতকে আরও তীব্র করবে।