চোখের পলকে শেষ ৭ প্রাণ! হিমাচলে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় ছড়াল তীব্র শোকের ছায়া

হিমাচল প্রদেশের চম্বা জেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে এবং ১১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার সকালে তিসা-বৈরাগড় সড়কে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেসরকারি ওই যাত্রীবাহী বাসটি বৈরাগড় থেকে চম্বার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল এবং যাত্রাপথে এই বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়।

প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল সাড়ে ছ’টায় বাসটি বৈরাগড় থেকে চম্বার দিকে যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই, মাত্র তিন কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার পর চালুজ মোড়ের কাছে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এর ফলে বাসটি রাস্তা থেকে ছিটকে নীচের আরেকটি রাস্তায় গিয়ে আছড়ে পড়ে এবং মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেন। প্রশাসনের সাহায্য আসার আগেই স্থানীয় মানুষজন উদ্ধারকাজের প্রাথমিক দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেন।

খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বাসের কাঠামো এতটাই ভেঙে গিয়েছিল যে ভিতরের যাত্রীদের উদ্ধার করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছিল। উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করতে ঘটনাস্থলে দুটি জেসিবি মেশিন নিয়ে আসা হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর গ্যাস কাটার ও জেসিবি সহযোগে বাসটি কেটে ভিতরে আটকে থাকা যাত্রীদের একে একে বাইরে বের করা হয়। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় এবং পরবর্তীতে আরও চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

দুর্ঘটনায় আহত ১১ জন যাত্রীকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী তিসা হাসপাতালে পাঠানো হয়। চুরার সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট (SDM) রাজেশ কুমার জারিয়াল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সাতজন যাত্রীর প্রাণ গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয় সহযোগিতায় দ্রুত উদ্ধারকার্য চালানো সম্ভব হয়েছে। আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, তিসা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতর আহত ১১ জনের মধ্যে ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চম্বা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বাসটির এই হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারানোর সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয়দের প্রাথমিক অনুমান, চালুজ মোড়ের বিপজ্জনক বাঁকে বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই বিপত্তি ঘটে থাকতে পারে। পুলিশ এই ঘটনায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ও আহত যাত্রীদের একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে পরিবারের সদস্য ও প্রিয়জনরা সঠিক তথ্য পেতে পারেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গোটা হিমাচল জুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকার্ত পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।