“মাটির টানে ফিরতে চাই নিজ রাজ্যে!” জমি না পেয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী ধামির দ্বারস্থ ঋষভ পান্ত, মিলল বড় আশ্বাস

ভারতীয় দলের তারকা উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ঋষভ পান্ত উত্তরাখণ্ডে নিজের জন্য একটি বাড়ি বানানোর জমি খুঁজে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির কাছে সাহায্যের জন্য আবেদন জানিয়েছেন। পান্তের এই আকুল আবেদনে দ্রুত সাড়া দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অবিলম্বে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশও জারি করেছেন।

বেশ কিছুদিন আগে গভীর রাতে নিজের এক্স (তৎকালীন টুইটার) হ্যান্ডেলে পরপর কয়েকটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেন ঋষভ পান্ত। সেখানে তিনি লেখেন, “আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করাটা অত্যন্ত গর্বের বিষয়, কিন্তু যদি অনুমতি দেন, আমি সরকারের নির্ধারিত মূল্যে জমি কিনতে চাই যাতে নিজের রাজ্যে প্রথম বাড়িটি তৈরি করতে পারি।” তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন বাইরে থাকার পর তিনি এবার পাকাপাকিভাবে উত্তরাখণ্ডে নিজের ভিটেতে ফিরে যেতে চান এবং পাহাড়ি মানুষের মাঝে বসবাস করে রাজ্যের উন্নয়নে অবদান রাখতে চান।

পান্ত তাঁর টুইটে গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করে লেখেন যে, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে স্বচ্ছতার অভাবে আজকাল উত্তরাখণ্ডে জমি কেনা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত তিন বছর ধরে তিনি চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি, এমনকি একটি আইনি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। তাঁর এই আকুল আর্তনাদ নজর এড়ায়নি মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির। পান্তের টুইটটি রিটুইট করে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “প্রিয় ঋষভ, তুমি উত্তরাখণ্ডের গর্ব। তোমার অসাধারণ খেলা ও সাফল্যের মাধ্যমে তুমি দেশ ও বিশ্বের বুকে আমাদের নাম উজ্জ্বল করেছ। মাতৃভূমির প্রতি তোমার এই ভালোবাসা এবং এখানে ফিরে এসে অবদান রাখার ইচ্ছা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন যে, পান্ত যে সমস্ত বিষয়গুলো উত্থাপন করেছেন, সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই তাঁরা পান্তের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনি ও নিয়মসম্মত উপায়ে সম্ভাব্য সমস্ত রকম সহযোগিতা নিশ্চিত করবেন। ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয় তারকার এই স্বদেশপ্রীতি এবং পাহাড়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করার ইচ্ছের খবর প্রকাশ্যে আসতেই তা নেটদুনিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। অনুরাগীরা পান্তের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং রাজ্য সরকারের এই দ্রুত পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।