বদ্রীনাথ ধামে বড়সড় চুরি! নগদ টাকা, সোনা-রুপোর মুদ্রা ও শালগ্রাম শিলা উধাও

রাম মন্দিরের পর এবার উত্তরাখণ্ডের পবিত্র বদ্রীনাথ ধামে প্রণামী চুরি ও দানের অর্থ নয়ছয়ের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মন্দিরের দান গোনার ঘর থেকে নগদ টাকা, সোনা-রুপোর মুদ্রা এমনকি শালগ্রাম শিলা পর্যন্ত চুরি যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)।
সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল তদন্তকারী পুলিশের দাবি, মন্দির কমিটির (BKTC) সাসপেন্ড হওয়া কর্মী প্রমোদ নৌটিয়ালকে নিয়ে এই সন্দেহের কেন্দ্রে। পুলিশের উদ্ধার করা ২ জুলাইয়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে:
অভিযুক্ত প্রমোদ নৌটিয়াল দান গোনার ঘর এবং নিজের অফিসের মধ্যে বারবার সন্দেহজনকভাবে যাতায়াত করছেন।
দান গোনার ঘর থেকে ৫০০ ও ১০০ টাকার নোটের বান্ডিল, সোনা-রুপোর মুদ্রা এবং প্রণামীর খাম (যাতে প্রায় ১০-১২ হাজার টাকা ছিল) তিনি সরিয়ে নিজের অফিসে লুকিয়ে রাখছিলেন।
এমনকি মন্দিরের পবিত্র শালগ্রাম শিলাও এই চুরির তালিকায় রয়েছে।
তদন্তের পরিধি ও বর্তমান পরিস্থিতি এই চুরির ঘটনার পর বদ্রীনাথ থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন ভারপ্রাপ্ত টেম্পল অফিসার যুদ্ধবীর পুষ্পওয়ান। এর ভিত্তিতে SIT-এর পক্ষ থেকে ২৫ ও ২৯ জুনের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অভিযুক্ত কর্মীর কল রেকর্ডও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এদিকে, এই ঘটনার তদন্তে তিনটি স্তর কাজ করছে: ১. উত্তরাখণ্ড পুলিশ ও SIT। ২. বিকেটিসি-র নিজস্ব বিভাগীয় তদন্ত কমিটি। ৩. গাড়োয়াল কমিশনারের নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি।
আদালতের দ্বারস্থ অভিযুক্ত নিজের সাসপেনশন এবং এফআইআর-এর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিযুক্ত কর্মী প্রমোদ নৌটিয়াল। বিচারপতি অলোক মেহরার বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করছে এবং মন্দির কমিটিকে আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে জবাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।
এই ঘটনায় ভক্তদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণে এমন পবিত্র জিনিসের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, তাই অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।