চিনের নতুন আইন, এবার বিদেশের মাটিতেও দাপট বেজিংয়ের, টার্গেট সমালোচকরা!

চিনে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ‘এথনিক ইউনিটি’ বা জাতিগত ঐক্য আইন আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই নতুন আইনের মাধ্যমে বেজিং স্পষ্ট করেছে যে, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ‘হান’ চিনা জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও পরিচয়ই এখন দেশের একমাত্র স্বীকৃত পরিচয়। এর ফলে তিব্বতি, উইঘুর এবং মঙ্গোলিয়ানদের মতো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও ধর্মীয় অস্তিত্ব কার্যত বিলুপ্তির মুখে।

বেজিং এই আইনকে ‘সামাজিক ঐক্য’ ও শক্তিশালী জাতীয় পরিচয়ের দোহাই দিয়ে প্রচার করলেও, মানবাধিকার কর্মী ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর লক্ষ্য হলো ভিন্নমত দমন এবং ‘সাইনিসাইজেশন’ (Sinicisation) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সব কিছুকে চিনা ছাঁচে ফেলা। তিব্বতের বৌদ্ধমঠের নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে জিনজিয়াং-এর উইঘুরদের বন্দিশিবিরে আটকে রাখা—এই নতুন আইন সেই সব অমানবিক পদক্ষেপকে এখন আইনি বৈধতা প্রদান করছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই আইনের হাত থেকে দেশের সীমানাও রেহাই পাচ্ছে না। চিনা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা সমালোচক বা ভিন্নমতাবলম্বীরা এখন বিশ্বের যেকোনো প্রান্তেই থাকুক না কেন, এই আইনের আওতায় তাদের টার্গেট করা সহজ হবে। ইতিমধ্যেই বিদেশের মাটিতে চিনের গোপন পুলিশ স্টেশনের অস্তিত্ব নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। নিউইয়র্ক, লন্ডন এবং ফ্রান্সে চিনা নাগরিকদের ওপর নজরদারি ও দমন-পীড়নের ঘটনায় সরাসরি চিনা এজেন্টের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। এমনকি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মরত চিনা গোয়েন্দারা ভিন্নমতাবলম্বীদের হুমকি দিতে ভুয়ো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তারা সদস্য দেশগুলোকে চিনের সঙ্গে অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে। শি জিনপিংয়ের ‘ডালিমের দানার মতো ঐক্যবদ্ধ’ থাকার ডাক আদতে এক স্বৈরাচারী শাসনের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে নাগরিকদের প্রতিটি পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের যে প্রয়াস চিন চালাচ্ছে, তা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার চূড়ান্ত পরিপন্থী। সব মিলিয়ে, এই নতুন আইন কেবল চিনের অভ্যন্তরীণ সংকট নয়, বরং বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ওপর এক বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা দিচ্ছে।