চিনের দিকে এগোচ্ছে টাইফুন ডলফিন! বন্ধ টয়োটার কারখানা, মোতায়েন জরুরি পরিষেবা

প্রকৃতির ভয়ংকর কোপে বিপর্যস্ত জাপান। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি দ্বীপে তীব্র বেগে আছড়ে পড়েছে শক্তিশালী টাইফুন ‘ডলফিন’। ঘূর্ণিঝড়ের জেরে ওকিনাওয়ার মূল বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং দ্বীপটিতে আসা-যাওয়ার সমস্ত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ঝড়ের আগাম পূর্বাভাস পেয়েই প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্বীপের কয়েকশো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
ওকিনাওয়ায় ঝড়ের দাপট ও ক্ষয়ক্ষতি
জাপানের আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত টাইফুন ডলফিনের অবস্থান ছিল ওকিনাওয়ার ঠিক উত্তরে। সেই সময় ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৮৯ মাইল বা ১৪৩ কিলোমিটার। ওকিনাওয়া অঞ্চলে আগামী রবিবার পর্যন্ত একটানা ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘর থেকে বের না হয়ে নিরাপদে বাড়িতেই থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
প্রশাসন সূত্রে খবর, টাইফুনের আঘাতে এখনও পর্যন্ত তিনজন সামান্য আহত হয়েছেন। তবে যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং প্রায় ৫০০-র বেশি বিমান চলাচল বাতিল করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের অনুমান, এই সপ্তাহান্তে ঘূর্ণিঝড়টি কিছুটা দুর্বল হয়ে চীনের পূর্ব উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং আগামী সোমবার সকালে তা চীনের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে পারে।
Three hours later and Cape Hedo, Okinawa still getting lashed by the back end eyewall of typhoon Dolphin pic.twitter.com/E5jSoGMnIw
— James Reynolds (@EarthUncutTV) August 7, 2026
ভূমিকম্পের পর ফের দুর্যোগের মুখে জাপান
টাইফুন ডলফিনের এই আঘাত এমন এক সময়ে এল, যার ঠিক আগেই গত সপ্তাহে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল জাপানের কিউশু দ্বীপের কুমামোতো এলাকা। সেই ভূমিকম্পের জেরে বহু মানুষ ঘরছাড়া হন এবং এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬,৭০০ মানুষ বিভিন্ন ত্রাণশিবিরে দিন কাটাচ্ছেন। এমন কঠিন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে বিশ্বখ্যাত গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা টয়োটা (Toyota) তাদের ৯টি কারখানায় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।