১.৪২ লক্ষ শিক্ষকের চাকরি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা! বড় স্বস্তি দিতে স্পেশাল টেটের প্রস্তুতি উত্তরপ্রদেশে!

উত্তরপ্রদেশের শিক্ষা মহলে কর্মরত নন-টেট (Non-TET) শিক্ষকদের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্বস্তিদায়ক বড় আপডেট সামনে এসেছে। উত্তরপ্রদেশ শিক্ষা সেবা নির্বাচন কমিশন বা ইউপিইএসএসসি (UPESSC) রাজ্যের লক্ষাধিক নন-টেট শিক্ষকদের জন্য একটি বিশেষ টেট বা স্পেশাল টিইটি (Special TET) আয়োজন করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে জোরকদমে কাজ করছে। রাজ্য সরকারের স্পষ্ট নির্দেশ ও তদারকিতেই এই বিশেষ পরীক্ষাটি আয়োজন করা হচ্ছে। সাধারণ টেট পরীক্ষার নিয়মনীতি থেকে এই স্পেশাল টেট বেশ কিছু ক্ষেত্রে আলাদা হবে, যার ফলে দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কায় থাকা রাজ্যের হাজার হাজার নন-টেট শিক্ষক আইনি সুরক্ষা ও বিশাল স্বস্তি পেতে চলেছেন। বর্তমানে সমগ্র উত্তরপ্রদেশ জুড়ে এই ধরনের নন-টেট শিক্ষকের মোট সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৪২ হাজার। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারার কারণে এতদিন তাদের চাকরি নিয়ে তীব্র আইনি সংকট তৈরি হয়েছিল।

পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, দীর্ঘদিন ধরে এই শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় ছিল। উত্তরপ্রদেশ শিক্ষা সেবা নির্বাচন কমিশন রাজ্য সরকারের নির্দেশ কঠোরভাবে পালন করে নন-টেট শিক্ষকদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ স্পেশাল টেট পরীক্ষার খসড়া বা প্রস্তাব ইতিমধ্যেই প্রস্তুত করে ফেলেছে। খুব শীঘ্রই এই প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হবে। সরকারের কাছ থেকে সবুজ সংকেত বা অনুমোদন মিললেই এই স্পেশাল টেটের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি বা নোটিফিকেশন প্রকাশ করা হবে। নিয়মানুযায়ী, এই বিশেষ পরীক্ষায় শুধুমাত্র নির্দিষ্ট যোগ্যতা সম্পন্ন নন-টেট শিক্ষকেরাই আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

রাজ্য সরকারের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশে বর্তমানে কর্মরত নন-টেট শিক্ষকদের সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৪২ হাজার। এর মধ্যে কেবলমাত্র প্রাথমিক স্তরে কর্মরত নন-টেট শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ৬৪ হাজার এবং উচ্চ প্রাথমিক স্তরে প্রায় ৭৬ হাজার শিক্ষক এই ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই সমস্ত শিক্ষকেরা প্রত্যেকেই ২০১০ সালের আগে নিয়ম মেনে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

মূলত দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের একটি কঠোর নির্দেশ ও ঐতিহাসিক রায়ের ফলেই সারা দেশের পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের নন-টেট শিক্ষকদের চাকরি আজ চরম সংকটের মুখে পড়েছে। সুপ্রিম কোর্ট তার এক রায়ে স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, ২০১০ সালের পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও শিক্ষক पात्रता পরীক্ষা বা টেট পাশ করা বাধ্যতামূলক। যারা এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হবেন, তাদের পদোন্নতিতে স্থগিতাদেশ জারি করা এবং চাকরি থেকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। এই রায়ের বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশ সরকার সুপ্রিম কোর্টে পুনর্বিবেচনার আর্জি জানালেও সেই রিভিউ পিটিশন খারিজ হয়ে যায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষকরা কেন্দ্রের কাছ থেকে কোনো আইনি রক্ষাকবচ বা আশার আলো না পাওয়ায়, অবশেষে একাধিক রাজ্য সরকার নিজেদের মতো করে নন-টেট শিক্ষকদের জন্য স্পেশাল টেট আয়োজনের পথে হাঁটছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে এক বিরাট পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।