চিকিৎসার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তা দূর? ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মিলতে পারে ক্যাশলেস সুবিধা!

দেশের সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়নে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের পথে হাঁটছে কেন্দ্র সরকার। আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (AB-PMJAY)-এর আওতায় থাকা বার্ষিক স্বাস্থ্যবিমার কভার ৫ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লক্ষ টাকা করার জোরালো সুপারিশ করেছে সংসদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক স্থায়ী কমিটি। যদিও এটি বর্তমানে একটি প্রস্তাব মাত্র, তবুও এই সুপারিশ কার্যকর হলে দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবার ইতিহাসে এটি এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।

সংসদীয় কমিটির ১৭২তম প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, গত কয়েক বছরে চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যয়ের হার আকাশছোঁয়া হয়েছে। ক্যানসার, হার্ট বাইপাস সার্জারি, লিভার বা কিডনি প্রতিস্থাপনের মতো জটিল ও ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে বর্তমানের ৫ লক্ষ টাকার বিমা কভার অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত হচ্ছে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, অস্ত্রোপচারের মাঝপথেই বিমার সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় রোগীকে আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে। এই প্রতিকূলতা কাটাতে এবং সাধারণ পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই বিমার পরিমাণ দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এই সুপারিশ যদি কেন্দ্র সরকার গ্রহণ করে, তবে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর চিকিৎসার বড় চাপ কমবে। অর্থের অভাবে আর কোনো রোগীর চিকিৎসা মাঝপথে বন্ধ হবে না। ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে দরিদ্র পরিবারের ওপর যে প্রবল অর্থনৈতিক চাপ পড়ে, তা অনেকাংশে লাঘব হবে।

বর্তমানে এই প্রকল্পে যোগ্য পরিবারগুলি প্রতি বছর ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পান। সরকারি এবং তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে এই কার্ড ব্যবহার করা যায়। বিশেষত ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সম্প্রতি ‘আয়ুষ্মান বয় বন্দনা’ প্রকল্পের আওতায় যে বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে, তার সঙ্গে এই ১০ লক্ষ টাকার কভার যুক্ত হলে তা প্রবীণদের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনবে।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট রাখা প্রয়োজন, বর্তমানে সারা দেশে আগের মতোই ৫ লক্ষ টাকার বিমা কভার কার্যকর রয়েছে। সংসদীয় কমিটির এই সুপারিশ কেন্দ্র সরকার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন না দেওয়া পর্যন্ত প্রকল্পের নিয়মে কোনো পরিবর্তন আসবে না। প্রকল্পটির সুবিধা মূলত আর্থিকভাবে দুর্বল ও নির্ধারিত যোগ্য পরিবারের জন্য সংরক্ষিত। আপনার নাম যদি কেন্দ্রের সুবিধাভোগী তালিকায় না থাকে, তবে আপনি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। সে ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের বিকল্প পথ খোলা রয়েছে।

এখন দেখার বিষয়, জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে সরকার এই সুপারিশকে কত দ্রুত বাস্তবায়নের পথে নিয়ে যায়। দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে মজবুত করতে এই পরিবর্তনের দাবি এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।