হাওড়া রেল বিভাগের যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং পরিষেবার মান নিশ্চিত করতে এক সাহসী পদক্ষেপ নিলেন ডিআরএম শ্রী বিশাল কাপুর। রবিবার সকালে হাওড়া-বর্ধমান শাখার ব্যস্ততম দুটি ট্রেন—‘মুম্বই মেল’ এবং ‘পূর্বা এক্সপ্রেস’-এ চালানো হলো এক অতর্কিত নিরাপত্তা ও পরিষেবা অভিযান। সাধারণ যাত্রীর ছদ্মবেশে বা আচমকা উপস্থিত হয়ে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যাচাই করে নিলেন ট্রেনগুলোতে সব কিছু ঠিকঠাক আছে কি না।
এই অভিযানে ডিআরএম-এর সাথে ছিলেন সিনিয়র ডিভিশনাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, সিনিয়র ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার এবং সিনিয়র ডিভিশনাল সিকিউরিটি কমিশনারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা। রবিবার ছুটির সকালে আচমকা আধিকারিকদের এই উপস্থিতি রেল কর্মীদের মধ্যে যেমন তৎপরতা বাড়িয়েছে, তেমনি যাত্রীদের মধ্যে ফিরিয়েছে বাড়তি নিরাপত্তার অনুভূতি।
পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য ছিল ট্রেনের অন্দরমহলের বাস্তব চিত্র তুলে আনা। ট্রেনের সুরক্ষা, অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধের ব্যবস্থা, কোচের পরিচ্ছন্নতা, রেল কর্মীদের আচরণ এবং যাত্রী-সংযোগ ব্যবস্থা—সবকিছুই ছিল এই অভিযানের আওতায়। কোনো রকম আগাম বার্তা না দিয়ে ডিআরএম নিজে ট্রেনের বিভিন্ন বগিতে ঘুরে বেড়িয়েছেন। ট্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরপিএফ (RPF)-এর ডগ স্কোয়াডকেও তল্লাশিতে কাজে লাগানো হয়।
এই অভিযানের সময় একটি এসি ৩-টায়ার কোচের শৌচাগারে এক যাত্রীকে ধূমপানরত অবস্থায় হাতেনাতে ধরা হয়। রেলের নিয়ম অনুযায়ী, চলন্ত ট্রেনে ধূমপান করা দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এটি অগ্নিকাণ্ডের মতো বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে। অভিযুক্ত যাত্রীর বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সহযাত্রীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এ ধরনের অপরাধ বরদাস্ত করা হবে না।
শুধু নিরাপত্তা তল্লাশিই নয়, ডিআরএম শ্রী বিশাল কাপুর সরাসরি যাত্রীদের সাথে কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতার কথা শুনেছেন। পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে নিরাপত্তার অভাব—যাত্রীদের প্রতিটি অভিযোগ মন দিয়ে শুনেছেন তিনি। যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে বা অভিযোগ জানাতে তারা যেন সরকারি অ্যাপ ‘রেল মদত’ (Rail Madad) ব্যবহার করেন।
পরিদর্শনের পর যে বিষয়গুলোতে উন্নতির প্রয়োজন, সেগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন ডিআরএম। রেলের মতে, এটি কেবল একটি নিয়মমাফিক পরিদর্শন ছিল না, বরং যাত্রীদের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কাছ থেকে চেনার এক কার্যকর প্রচেষ্টা। হাওড়া বিভাগের এই উদ্যোগ আগামী দিনে রেল পরিষেবা আরও মসৃণ ও নিরাপদ করবে বলেই আশা করছেন নিত্যযাত্রীরা।





