চম্পত রাইয়ের ইস্তফা! রাম মন্দির ট্রাস্টে বড় রদবদল, নেপথ্যে কি তবে ১৫১ কেজি সোনা গায়েবের রহস্য?

অযোধ্যা রাম মন্দির ট্রাস্টে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মন্দিরে চুরির ঘটনা এবং আর্থিক দুর্নীতির লাগাতার অভিযোগে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দির ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং ট্রাস্টি ডঃ অনিল মিশ্র। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আজ বিকেল তিনটেয় অযোধ্যায় ট্রাস্টের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে এই বৈঠককে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

সূত্রের খবর, আজকের বৈঠকে চম্পত রাই এবং ডঃ অনিল মিশ্রের ইস্তফাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হবে। গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগের আবহে চম্পত রাই এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন না বলেই মনে করা হচ্ছে। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হওয়া ট্রাস্টের প্রাথমিক আলোচনায় নতুন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) বর্তমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাধারণ সম্পাদক বজরংলাল বাগদার নাম জোরালোভাবে প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বাগদার পাশাপাশি দৌড়ে রয়েছেন ট্রাস্টের বর্তমান সদস্য কৃষ্ণমোহনও। এছাড়া, ট্রাস্টের নতুন সদস্য হিসেবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ইন্দ্রপ্রস্থ অঞ্চলের সচিব নীরজ দৌনেরিয়ার নামও জোরকদমে আলোচিত হচ্ছে। মন্দিরের প্রশাসনিক কাঠামো টিকিয়ে রাখতে সিইও পদে কাকে নিয়োগ করা হবে, তা নিয়েও জল্পনা চলছে।

এদিকে, চম্পত রাইয়ের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রসচিব লক্ষ্মী নারায়ণ। তিনি প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছেন যে, ২০২৪ সালের এপ্রিলে প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর তিনি ১৫১ কেজি ওজনের খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি একটি ‘রামচরিতমানস’ গ্রন্থ মন্দিরে দান করেছিলেন। তাঁর দাবি, স্বয়ং চম্পত রাই সেই মহামূল্যবান গ্রন্থটি গ্রহণ করলেও কোনও রসিদ প্রদান করেননি। বর্তমানে সেই ১৫১ কেজি সোনার গ্রন্থটি কোথায়, তার কোনও হিসাব ট্রাস্টের কাছে নেই। লক্ষ্মী নারায়ণ এই মর্মে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা এসআইটি (SIT)-কে নিজের বয়ান রেকর্ড করেছেন, যা তদন্তে নতুন মোড় এনেছে।

এই টানাপোড়েনের মাঝে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP) এক অদ্ভুত ও পাল্টা কৌশল নিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি অলোক কুমার অযোধ্যার ডিএসপি-কে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মতো রাজনৈতিক নেতারা যেহেতু ট্রাস্টের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ তুলেছেন, তাই তাঁদের পুলিশি তলব করে প্রমাণ চাওয়া হোক। অর্থাৎ, নিজেদের সাফাই গাওয়ার বদলে এখন অভিযোগকারীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতেই বেশি আগ্রহী ভিএইচপি।

সব মিলিয়ে অযোধ্যা রাম মন্দির ট্রাস্টের আজকের বৈঠকটি কেবল নতুন নিয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং এটি হয়ে উঠেছে মন্দির নিয়ে ওঠা একাধিক দুর্নীতির অভিযোগের জবাব দেওয়ার বড় মঞ্চ। এশিয়ার সংবাদমাধ্যম Asianetnews Bangla-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ট্রাস্ট এখন কোন কঠিন পদক্ষেপ নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় সারা দেশ।