শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ১২৫তম জন্মবার্ষিকী, ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমেই কি পূরণ হলো তাঁর স্বপ্ন?

ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা তথা আধুনিক ভারতের অন্যতম স্থপতি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার এই বিশেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী একটি বিস্তারিত নিবন্ধের মাধ্যমে ড. মুখার্জির বর্ণময় জীবন, দেশের প্রতি তাঁর অসামান্য অবদান এবং অখণ্ড ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাঁর লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর লেখায় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে ‘মেধা, জনসেবা ও নৈতিক দৃঢ়তার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ড. মুখার্জির জীবনের মূলমন্ত্র ছিল “ভারতের অখণ্ডতা”। দেশভাগের সময় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের মানচিত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে টিকিয়ে রাখা থেকে শুরু করে পরবর্তীকালে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদার বিরুদ্ধে লড়াই—প্রতিটি ক্ষেত্রেই শ্যামাপ্রসাদ ছিলেন আপসহীন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ২০১৯ সালে ৩৭০ ও ৩৫-এ ধারা বাতিলের মাধ্যমে ভারত সরকার তাঁর সেই ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের প্রতি সবচেয়ে যথার্থ শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছে।
নিবন্ধে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির শিক্ষাবিদ হিসেবে ভূমিকারও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মোদি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে তিনি যে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েছিলেন, তা আজও শিক্ষাক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জোগায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেবল কেরানি তৈরির কারখানা নয়, বরং জাতি-নির্মাতা তৈরির সূতিকাগার হিসেবে দেখতেন তিনি।”
স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্প ও সরবরাহ মন্ত্রী হিসেবে শ্যামাপ্রসাদের দূরদর্শী চিন্তার কথাও উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর লেখায়। দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন বা সিন্দ্রি সার কারখানার মতো শিল্পের ভিত্তি স্থাপনের পেছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপের সুরে বলেন, সিন্দ্রি কারখানা দীর্ঘকাল অবহেলিত থাকলেও, বর্তমান সরকার তা পুনরায় চালু করে তাঁর ‘আত্মনির্ভর’ ভারতের স্বপ্নকে সাকার করার চেষ্টা করেছে।
রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে শ্যামাপ্রসাদের মানবিক মুখটিও এদিন স্মরণ করেছেন মোদি। ১৯৪৩-এর বাংলা দুর্ভিক্ষ কিংবা ১৯৪২-এর মেদিনীপুরের ঘূর্ণিঝড়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে তিনি দ্বিধা করেননি। নেহেরুর মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও মোদি বড় করে দেখেছেন—যেখানে আদর্শের চেয়েও জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে মতপার্থক্য ভুলে তিনি দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন, আবার মতের অমিল হতেই মাথা নত না করে পদত্যাগ করেছিলেন।
পরিশেষে, শ্যামাপ্রসাদের সেই অমর বাণী—”যে কাজই হাতে নাও, তা নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে শেষ করো”—তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আজকের তরুণরাই শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্নের সেই শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী ভারত গড়ে তুলবে।