চব্বিশের আগে কি ‘ভিক্টিম কার্ড’ খেলছেন মমতা? ইডি হানা ও হেনস্থার অভিযোগে উত্তাল রাজধানী

সোমবার দিল্লির রাজনীতিতে যে নাটকীয় মোড় দেখা গেল, তা সাম্প্রতিক কালে নজিরবিহীন। একদিকে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেড় ঘণ্টার উত্তপ্ত বৈঠক থেকে মাঝপথে বেরিয়ে আসা, অন্যদিকে বঙ্গভবনে দিল্লি পুলিশের তল্লাশি চালানোর অভিযোগে সরব হওয়া— সব মিলিয়ে সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনীতির পারদ ছিল তুঙ্গে।
কমিশনের সঙ্গে সম্মুখ সমর: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকের পর রীতিমতো বিস্ফোরক মমতা। তাঁর অভিযোগ, বৈঠকে তৃণমূল প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে এবং এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকায় কারচুপি সংক্রান্ত কোনো প্রশ্নের সদুত্তর দেয়নি কমিশন। বাইরে বেরিয়ে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই কমিশন দালাল এবং উদ্ধত। আপনারা চাইলে লক্ষ মানুষ নিয়ে আসব।” তিনি আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নির্বাচন বয়কট নয়, বরং রাজনৈতিক ময়দানেই তিনি এই লড়াই লড়ে নেবেন।
রাজধানীতে পুলিশ বনাম পুলিশ: দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে বঙ্গভবনে ঘরে ঘরে তল্লাশি চালানোর অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তাঁকে এবং তাঁর দলের লোকেদের হেনস্থা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় এবার দিল্লি যাচ্ছে রাজ্য পুলিশের ২২ জন কর্মীর একটি বিশেষ দল, যার নেতৃত্বে থাকছেন একজন ডিএসপি। রাজধানীর বুকে এই ‘পুলিশ বনাম পুলিশ’ সংঘাত এক চরম সাংবিধানিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জনমত কী বলছে? এই তপ্ত আবহে সাধারণ মানুষের মনোভাব বুঝতে এবিপি আনন্দ একটি সমীক্ষা চালিয়েছিল। সেখানে দেখা যাচ্ছে:
তৃণমূলের লাভ: ৬৯% মানুষ মনে করছেন কমিশনের বিরুদ্ধে এই প্রচার তৃণমূলকে রাজনৈতিক ডিভিডেন্ড দেবে।
সংঘাতের মেঘ: ৯১% মানুষ মনে করছেন রাজধানীতে পুলিশ বনাম পুলিশ সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
ভোটার লিস্ট নিয়ে সংশয়: ৮৫% মানুষ মনে করছেন এসআইআর (SIR) নিয়ে এই জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে ভোটার তালিকার চূড়ান্ত প্রকাশ সম্ভব হবে না।
সব মিলিয়ে, দিল্লি থেকে ইডি অভিযান ও হেনস্থার যে অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুলছেন, তা ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পালের হাওয়া কার দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।