বর্তমান সময়ে নারীদের মধ্যে হরমোনজনিত সমস্যার মধ্যে সবথেকে উদ্বেগের নাম পিসিওডি (PCOD)। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, মাত্রাতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এই সমস্যার প্রধান কারণ। শরীরের অভ্যন্তরে ঘটা এই হরমোনের গোলমাল শুধু ভেতরের অঙ্গ নয়, প্রভাব ফেলে বাহ্যিক রূপেও। আরএমএল হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সালোনি চাড্ডা জানিয়েছেন, মূলত চারটি প্রাথমিক লক্ষণ দেখে এই রোগ শনাক্ত করা সম্ভব।
পিসিওডি-র ৪টি প্রধান লক্ষণ:
অনিয়মিত মাসিক: পিসিওডি-র সবথেকে বড় লক্ষণ হলো মাসিকের সময় পরিবর্তন হওয়া বা দীর্ঘস্থায়ী অনিয়ম।
ওজনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন: হরমোনের কারণে হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া।
অবাঞ্ছিত লোম ও ব্রণ: মুখ, চিবুক বা শরীরে অবাঞ্ছিত লোম গজানো (Hirsutism) এবং হঠাৎ ব্রণের সমস্যা বেড়ে যাওয়া।
চুল পড়া: মাথার চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা ব্যাপক হারে চুল পড়ার সমস্যাও এই হরমোনজনিত ভারসাম্যের অভাবকে নির্দেশ করে।
ঝুঁকি কাদের বেশি?
যাঁরা অত্যধিক জাঙ্ক ফুড খান, নিয়মিত শরীরচর্চা করেন না বা যাঁদের ঘুমের অভাব রয়েছে, তাঁদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবথেকে বেশি। এ ছাড়া বংশগত কারণেও এই সমস্যা হতে পারে। স্থূলতা এবং মানসিক চাপ এই রোগকে আরও ত্বরান্বিত করে।
প্রতিরোধের উপায়:
পিসিওডি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জীবনযাত্রায় বদল আনা জরুরি। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, ফল ও শাকসবজি রাখুন এবং বাইরের খাবার বর্জন করুন। নিয়মিত যোগব্যায়াম বা হালকা শরীরচর্চা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। লক্ষণ দেখা দিলেই দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।





