“গ্যাস কাটার নিয়ে ইন্সপেকশন করতে এসেছেন?” অভিষেকের অফিসে KMC-র হানা

ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের বাইরে বেআইনি বিলবোর্ড লাগানোর অভিযোগ ঘিরে বৃহস্পতিবার বিকেলে চরমে ওঠে রাজনৈতিক উত্তেজনা। বিলবোর্ড খোলার নোটিশ হাতে নিয়ে এদিন কেএমসি (KMC)-র একটি প্রতিনিধি দল ক্যামাক স্ট্রিটে পৌঁছয় এবং পার্টি অফিসের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। কিন্তু সেই পদক্ষেপে তীব্র বাধা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। বৈধ নোটিশ দেখাতে না পারার অভিযোগ তুলে তিনি পুর আধিকারিকদের আটকে দেন, ফলে সেই সময় ফিরে যেতে বাধ্য হয় কেএমসি দল।
পুলিশ ফোর্স নিয়ে পুনরায় এন্ট্রি এবং অভিষেকের ক্ষোভ
কিছুক্ষণ পরে পুলিশ ফোর্স সঙ্গে নিয়ে পুর আধিকারিকরা পুনরায় ফিরে আসেন এবং ক্যামাক স্ট্রিটের বাউন্সার ও নিরাপত্তারক্ষীদের সরিয়ে সোজা অফিসের ভেতরে প্রবেশ করেন। এই ঘটনায় তুমুল ক্ষুব্ধ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “কোন পার্টি কোথায় বিলবোর্ড লাগাবে সেটা কি বিজেপি ঠিক করবে? আমার পার্টির বিলবোর্ড আমি কোথায় লাগাব, সেটা কি বিজেপির পার্টি অফিসে ঠিক হবে? আজকে হাতেনাতে ধরা পড়েছে কেএমসি। অবৈধ অর্ডার নিয়ে চলে এসেছিল। গ্যাস কাটার নিয়ে ইন্সপেকশন করতে এসেছেন?”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, বিলবোর্ড বাইরে থাকা সত্ত্বেও কেন অফিসের ভিতরে ঢোকার এই অতিসক্রিয়তা? বিজেপি ওপর থেকে নির্দেশ দিয়েছে বলেই এমনটা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কোনো ধরনের আইনি শুনানি বা বৈধ নোটিশ ছাড়া জোর করে তৃণমূলকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে বলে তোপ দাগেন সাংসদ।
পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে তীব্র বচসা
বৈধ নোটিশ দেখাতে পারলে তবেই বিলবোর্ড খোলা হবে—এই দাবিতে অনড় ছিলেন অভিষেক। পুর আধিকারিকরা নোটিশ বা সংশ্লিষ্ট ছবি দেখাতে ব্যর্থ হলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে কাউকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এই নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘ তর্কে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। পুলিশ অফিসারকে বলতে শোনা যায়, সরকারি কাজে বাধা পেলে তারা আইনি পদক্ষেপ করতে বাধ্য। তবে অভিষেক পাল্টা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, পুলিশ বিজেপির কথায় অতিসক্রিয়তা দেখাচ্ছে এবং এই ঘটনার বিরুদ্ধে তিনি দেশের প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি পাঠানোর পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ে নামবেন।
চাঞ্চল্যকর মন্তব্য অগ্নিমিত্রা পাল ও নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে
এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাথবাসী সীতা দেবীর প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন অভিষেক। কিছুদিন আগে ওই মহিলাকে রাস্তায় দুধ গরম করতে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেই প্রসঙ্গে অভিষেক কটাক্ষের সুরে বলেন, বুলডোজার চালিয়ে গরিব মানুষের ঘর ভেঙে দেওয়া হচ্ছে এবং গরিব মানুষকে রাস্তায় দুধ গরম করতে দেখে বিজেপি নেতারা বড় বড় ভাষণ দিচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী যদি এই ঘটনা সমর্থন না করেন, তবে কেন অগ্নিমিত্রা পালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না—এই প্রশ্নও তোলেন তিনি। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রেল স্টেশনে চা বিক্রির অতীত টেনে এনে আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, সেটা কার ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল, তার উত্তর আগে দিক বিজেপি।