পড়াশোনা করিয়ে স্ত্রীকে বানালেন পুলিশ কনস্টেবল, উর্দি গায়ে চাপতেই প্রেমিকের হাত ধরে চম্পট দিলেন স্ত্রী!

সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে থাকার সাত পাকের প্রতিশ্রুতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক অদ্ভুত ও মর্মান্তিক বিশ্বাসের মূল্য চুকানোর ঘটনা সামনে এল বিহারের রোহতাসে। স্ত্রীর সরকারি চাকরির স্বপ্ন পূরণ করতে নিজের সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেছিলেন এক স্বামী। কোচিংয়ের খরচ চালানো থেকে শুরু করে ভিন শহরে পরীক্ষা দিতে নিয়ে যাওয়া—সবটাই করেছেন তিনি। কিন্তু স্ত্রীর গায়ে বিহার পুলিশের কনস্টেবলের উর্দি উঠতেই বদলে গেল পুরো সমীকরণ। স্বামীর অভিযোগ, চাকরি পাওয়ার পরেই প্রেমিকের হাত ধরে ঘর ছেড়েছেন তাঁর স্ত্রী।
জানা গিয়েছে, দরিহাট থানা এলাকার আয়ারকোটার বাসিন্দা অর্চনা কুমারীর সঙ্গে গত ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি ডালমিয়ানগরের প্রয়াগ বিঘার বাসিন্দা অজয় কুমার সিংয়ের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর অর্চনা উচ্চশিক্ষা এবং একটি সরকারি চাকরি পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ডালমিয়ানগর পৌর পরিষদের এক সাধারণ বেসরকারি কর্মী হয়েও স্ত্রীর সেই স্বপ্নকে নিজের স্বপ্ন বানিয়ে নিয়েছিলেন অজয়। স্থানীয় কোচিং সেন্টারে ভর্তি করা থেকে শুরু করে স্ত্রীর পরীক্ষার জন্য এক শহর থেকে অন্য শহরে ছুটে বেড়ানো—সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি।
অবশেষে অজয়ের কঠোর পরিশ্রম এবং অর্চনার অধ্যাবসায়ে ফলও মেলে। বিহার পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে নির্বাচিত হন অর্চনা এবং প্রশিক্ষণের জন্য তাঁকে দারভাঙ্গায় পাঠানো হয়। কিন্তু স্বামীর অভিযোগ, প্রশিক্ষণ শেষ করে বেগুসরাইতে পোস্টিং পাওয়ার পরই অর্চনার আচরণে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন তিনি। গত জুলাই মাসে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফেরার পর তাঁর ফোনে বিবেক কুমার নামের এক যুবকের সঙ্গে চ্যাট দেখতে পান অজয়। জানা যায়, দেহরির গান্ধী নগরের বাসিন্দা ওই যুবকের সঙ্গে অর্চনার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল।
পরিবারের মধ্যস্থতায় একবার বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা হলেও তা বন্ধ হয়নি। গত ৩ জুলাই সমস্ত গয়না ও নগদ টাকা নিয়ে অর্চনা বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় স্বামী অজয় ডালমিয়ানগর থানায় এবং পরে রোহতাসের পুলিশ সুপারের কাছে ন্যায়বিচারের আর্জি জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এদিকে এই ঘটনায় অর্চনার মা শকুন্তলা দেবীও মেয়ের এহেন কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জামাইয়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এমন মেয়ে জন্ম দিয়ে তিনি আজ লজ্জিত। পুলিশ সুপার শ্রী রাজ জানিয়েছেন যে, অভিযোগের ভিত্তিতে একটি এফআইআর রুজু করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।