গাছের পাতা ও ফলমূলের চামড়া দিয়ে তৈরি মণ্ডপ! রামপুরহাটের এই পুজোয় ঢুকলেই মনে হবে যেন স্বর্গে এসেছেন, কীভাবে যাবেন?

বাঙালির একটি বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উমা এসেছেন নিজের বাড়ি। আর পুজো মানেই তো আনন্দ, উল্লাস, প্যান্ডেল হপিং আর নতুনত্বের খোঁজে ঘোরা। আপনি যদি এবার বীরভূম ভ্রমণের জন্য আসেন, তবে রামপুরহাটের ‘ডাকবাংলো মোড়ের’ এই ঠাকুর না দেখে গেলে আপনার পুজো ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। কারণ এটিই হলো বীরভূম জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় বিগ বাজেটের দুর্গাপূজা।
বিগ বাজেট থিম: ‘ইন্দ্রের রাজসভা’
রামপুরহাটের ডাকবাংলো সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির এই বছরের পুজোর থিম হলো ‘ইন্দ্রের রাজসভা’। পুজোর বাজেট আনুমানিক ৭০ থেকে ৭৫ লক্ষ টাকার কাছাকাছি।
এই মণ্ডপে প্রবেশ করলেই আপনার মনে হবে যেন আপনি একটি সত্যিকারের স্বর্গের রাজসভার মধ্যে প্রবেশ করেছেন। বিভিন্ন গাছ-গাছালির পাতা, তার সঙ্গে বিভিন্ন ফলমূলের চামড়ার অংশ দিয়ে এমন শৈল্পিক কারুকার্যে মণ্ডপটি সাজানো হয়েছে, যা দেখে আপনার মন মুগ্ধ হতে বাধ্য। এছাড়াও গাছের পাতা দিয়ে তৈরি বাটি-থালা-সহ নানাবিধ হস্তশিল্পের কাজও রয়েছে।
মণ্ডপ চত্বরটি সেজে উঠেছে বিখ্যাত চন্দননগরের আলোকসজ্জায়, যা এই রাজকীয় পরিবেশকে আরও জমকালো করেছে। বাইরের শিল্পী দিয়ে তৈরি করা হয়েছে দেবী দুর্গার প্রতিমা।
কীভাবে পৌঁছবেন এবং কী কী সুবিধা?
এই পুজো দেখতে গেলে আপনাকে বীরভূমের রামপুরহাটের ডাকবাংলো মোড়ে আসতে হবে। রামপুরহাট রেল স্টেশন থেকে মাত্র ১০ টাকা টোটো ভাড়া করে খুব সহজেই আপনি ডাকবাংলো মোড়ে পৌঁছতে পারবেন।
ডাকবাংলোর কলেজ মাঠে এই পুজোর মণ্ডপ দেখার পাশাপাশি দর্শনার্থীরা মেলার আনন্দও উপভোগ করতে পারবেন।
ক্লাবের উদ্যোক্তারা জানান, দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়াও বাঁশের ব্যারিকেট দিয়ে সুন্দরভাবে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে পর্যটকদের কোনো রকম অসুবিধা না হয়।
তাই বীরভূম ভ্রমণে এলে পরিবার-পরিজনদের নিয়ে অন্তত একবার এই ‘ইন্দ্রের রাজসভা’ দর্শন করে যেতে পারেন।