বিধাননগর হাসপাতালের নতুন নাম ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর! ডাক্তার দিবসে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

জাতীয় চিকিৎসক দিবস উপলক্ষে আজ সল্টলেকের ময়ূখ ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই মঞ্চ থেকেই তিনি চিকিৎসকদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের বেহাল দশা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

দিনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল বিধাননগর সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখন থেকে এই হাসপাতাল ‘ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল’ হিসেবে পরিচিত হবে। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং কিংবদন্তি চিকিৎসক ডাঃ রায়ের স্মৃতি ও অবদানকে অমর করে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর মূর্তিতে মাল্যদান ও শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। তাঁর প্রশাসনিক দূরদর্শিতা এবং চিকিৎসা পরিষেবার মহান আদর্শকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই এই নামকরণের লক্ষ্য।

তবে এই সম্মানজ্ঞাপন অনুষ্ঠানের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী রাজনৈতিক সুর চড়াতে ছাড়েননি। তিনি সরাসরি নিশানা করেন পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্যনীতিকে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গত কয়েক দশকে সরকারি হাসপাতালগুলিতে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের অভাব, পরিষেবার মানের অবনতি এবং প্রশাসনিক চরম উদাসীনতা সাধারণ মানুষকে সীমাহীন ভোগান্তির মুখে ঠেলে দিয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, স্বাস্থ্য পরিষেবা কোনো রাজনীতির ক্ষেত্র হতে পারে না; এখানে রোগীর স্বার্থই হওয়া উচিত একমাত্র লক্ষ্য।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা দেশের যেকোনো প্রান্তের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সক্ষম। কিন্তু সেই প্রতিভাকে বিকশিত করার জন্য প্রয়োজন সুসংহত পরিকল্পনা এবং আধুনিক পরিকাঠামো।”

বর্তমান সরকারের উদ্যোগে স্বাস্থ্য পরিষেবা ঢেলে সাজানোর কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি হাসপাতালগুলিকে দ্রুত আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা হবে। রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে উন্নত চিকিৎসার সরঞ্জাম—প্রতিটি ক্ষেত্রে যাতে মানুষ শ্রেষ্ঠ পরিষেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রশাসনিক দুর্বলতা দূর করে স্বচ্ছতা বজায় রাখার বার্তাও তিনি দেন এদিন।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিধানচন্দ্রের কর্মদক্ষতা ও সততাই হোক আপনাদের চলার পথের পাথেয়। সরকারের এই নতুন উদ্যোগের ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবার মান আগামী দিনে আমূল বদলে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সব মিলিয়ে, ডাক্তার দিবসে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।