গলায় দাগ, মুখ থেকে ফ্যানা! কাটিহারের পূজাকে হোটেলে খুন? তদন্তে নেমে কী জানল পুলিশ, সিসিটিভি ফুটেজ ঘিরে রহস্য

শিলিগুড়ির একটি হোটেলের বন্ধ ঘর থেকে এক তরুণীর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত ওই মহিলাকে তাঁর স্বামীই খুন করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই ওই ব্যক্তি শিশু-সহ পলাতক। রবিবার মৃতার পরিবারের উপস্থিতিতে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

মৃতার নাম পূজা দাস (২৫)। তিনি বিহারের কাটিহারের বাসিন্দা ছিলেন।

হোটেলের ঘরে যা ঘটল: পুলিশ সূত্রে খবর, পূজা দাস গত ২২ অক্টোবর সকালে এক পুরুষ এবং একটি শিশুর সঙ্গে ওই হোটেলে উঠেছিলেন। প্রথম দু’দিন সবই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু, ২৪ অক্টোবর শুক্রবার সকালে ওই ব্যক্তি হোটেলের রিসেপশনে এসে বাড়ি ফেরার জন্য একটি গাড়ি বুক করেন এবং বাচ্চাটিকে নিয়ে হোটেল থেকে বেরিয়ে যান।

এরপর ওই ব্যক্তি আর হোটেলে ফেরেননি, আর পূজাও ঘর থেকে বের হননি। সন্দেহ হওয়ায় হোটেল কর্তৃপক্ষ নিউ জলপাইগুড়ি থানায় খবর দেয়। পুলিশ এসে ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকতেই দেখে, বিছানার উপর মহিলার নিথর দেহ পড়ে আছে। তাঁর নাম-মুখ থেকে ফ্যানা বেরোচ্ছিল এবং গলায় দাগ ছিল।

খুনেই সন্দেহ স্বামীর দিকে: তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, মহিলার সঙ্গে থাকা ওই ব্যক্তি তাঁর স্বামী এবং সঙ্গে থাকা শিশুটি তাঁদের সন্তান। তবে ওই ব্যক্তির এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি রাকেশ সিং জানান, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ওই মহিলাকে খুন করেছে তাঁর সঙ্গে থাকা ওই ব্যক্তি। ওই ব্যক্তির খোঁজে আমরা তল্লাশি শুরু করেছি। অভিযুক্তকে ধরতে পারলেই খুনের কারণ জানা সম্ভব হবে।”

পুলিশ ঘটনার দিন হোটেলের এবং তার আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। শিশুটি তাঁর সঙ্গেই রয়েছে বলে পুলিশ অত্যন্ত সাবধানে প্রতিটি পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং অভিযুক্তের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। এদিকে, কাটিহার থেকে মৃতার পরিবারের সদস্যরা উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পৌঁছানোর পরই দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়।