ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধের শিকার হওয়া নাবালিকাদের অধিকার রক্ষায় এক ঐতিহাসিক এবং মানবিক নজির গড়ল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের সাফ কথা, ধর্ষণের কারণে কোনো নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে সন্তান জন্ম দিতে বাধ্য করা যাবে না। গর্ভপাতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার ওই নাবালিকার রয়েছে। এই স্পর্শকাতর বিষয়ে বর্তমান আইনি জটিলতা কাটাতে কেন্দ্রীয় সরকারকে আইন সংশোধনেরও পরামর্শ দিয়েছে আদালত।
শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার অবসান
বিচারপতি বি ভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি এন জে শাহের ডিভিশন বেঞ্চ একটি মামলার শুনানি চলাকালীন এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণটি করেন। আদালত জানায়, ধর্ষণের শিকার হওয়া একজন নাবালিকার কাছে মাতৃত্ব কোনো আনন্দের বিষয় নয়, বরং এটি তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি বড় ট্রমা বা মানসিক আঘাত। এই অবস্থায় তাঁকে জোরপূর্বক সন্তান জন্ম দিতে বাধ্য করা তাঁর মৌলিক অধিকার এবং বেঁচে থাকার যন্ত্রণাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ:
ব্যক্তিগত স্বাধীনতা: গর্ভপাত করাবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সম্পূর্ণভাবে ওই কিশোরীর। এক্ষেত্রে সমাজ বা আইনের চাপ কাম্য নয়।
আইন সংশোধনের আর্জি: বর্তমান ‘মেডিক্যাল টার্মিনেশন অফ প্রেগন্যান্সি’ (MTP) আইনে ২৪ সপ্তাহের বেশি সময়ের গর্ভপাতের ক্ষেত্রে যে কড়াকড়ি রয়েছে, তা নাবালিকা ধর্ষিতা এবং তাঁদের বিশেষ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সংশোধন করা প্রয়োজন।
মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি: আইনের যান্ত্রিক ব্যাখ্যা না দিয়ে আদালতকে এই ধরনের ক্ষেত্রে আরও বেশি সহানুভূতিশীল এবং মানবিক হতে হবে।
কেন এই নির্দেশ?
উল্লেখ্য, ভারতে গর্ভপাত সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার পর গর্ভপাত করাতে গেলে আদালতের অনুমতি নিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই আইনি দীর্ঘসূত্রতার কারণে নাবালিকারা সঠিক সময়ে চিকিৎসা পায় না। সুপ্রিম কোর্ট মনে করে, এই জটিলতা কাটাতে কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত একটি নির্দিষ্ট ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা, যাতে কোনো নাবালিকাকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও এই বোঝা বয়ে বেড়াতে না হয়।
শীর্ষ আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন সমাজকর্মী এবং মহিলা অধিকার রক্ষা আন্দোলনের কর্মীরা। তাঁদের মতে, এই রায়ের ফলে আগামী দিনে নির্যাতিত নাবালিকারা অনেক দ্রুত বিচার এবং উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন।
সুপ্রিম কোর্টের এই সাহসী পদক্ষেপ কি পারবে নারী সুরক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে? আপনার মতামত আমাদের কমেন্ট বক্সে জানান।





