গরু পাচারের পর এবার অনুপ্রবেশ! ‘দায় সকলেরই’ বলে BSF-এর বিরুদ্ধে আঙুল তুললেন দিলীপ, কেন তাৎপর্যপূর্ণ এই মন্তব্য?

ফের একবার বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন ফেললেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এবার পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশকারী সমস্যা নিয়ে মুখ খুলতে গিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ বিএসএফ (BSF)-এর দিকেই আঙুল তুললেন। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, “টাকার বিনিময়ে রাজ্য পুলিশের মতো বিএসএফও বাংলাদেশিদের ভারতে ঢুকতে দেয়।”
দিলীপ ঘোষের মতে, এই অনুপ্রবেশ সমস্যার দায়ভার “উভয়পক্ষের”। তাঁর আরও বড় দাবি, “সরকার চাইছে না বিদেশিরা এদেশ থেকে যাক! আর সরকার যদি না চায়, তাহলে বিদেশিদের আটকানো যাবে কীভাবে?” এই প্রশ্ন তুলে তোপ দাগেন বিজেপির এই প্রাক্তন সাংসদ।
SIR আতঙ্কে ‘মড়ক’ এবং তৃণমূলকে আক্রমণ
শুক্রবার উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে মেদিয়াবাজারে একটি চা-চক্রে যোগ দেন দিলীপ ঘোষ। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি অনুপ্রবেশের সমস্যা নিয়ে মুখ খোলেন।
সাম্প্রতিককালে SIR (Survey and Investigation Report) চালু হওয়ার পর থেকে উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টার ঘটনা বাড়ছে। এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি বিএসএফের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ভোটার রাজনীতি: তিনি বলেন, “বাংলাদেশ থেকে লোক এনে ভোটার কার্ড তৈরি করে শাসকপক্ষকে ভোটে জিততে হয়।”
SIR আতঙ্ক: দিলীপ ঘোষ বলেন, “এখন এসআইআরের ‘ভূত’ দেখতেই অনেকের বাবা-মা মরতে শুরু করেছে। এখানে নাকি ‘মড়ক’ লেগেছে। ফটাফট লোক মরছে। বিএলও-রাও নাকি মারা যাচ্ছে!”
মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগ: তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেন, “ভয় দেখিয়ে যখন কোনও লাভ হল না, তখন মুখ্যমন্ত্রী এসআইআর বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিচ্ছেন। আসলে বাহানা দিয়ে SIR বন্ধ করার চেষ্টা চলছে।”
‘সাধারণ মানুষেরও কি দায়ভার নেই?’
অনুপ্রবেশ সমস্যার দায়ভার কার? এই প্রশ্নের জবাবে দিলীপ ঘোষ বিএসএফ এবং পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দায়ভারের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষেরও কি দায়ভার নেই? তাঁরা কেন নিজের ভাগে ভাগ বসাতে দেয় বাইরের লোকেদের? কেন সাধারণ মানুষ কিছু করে না?”
বিজেপি নেতার সংযোজন, “সরকার কড়াকড়ি কিছু না-করলে বিএসএফ তিন কিলোমিটার ভারতীয় ভূখণ্ডে শুধু পাহারা দিয়ে কী করবে? সরকারকেও তো কড়া হতে হবে।”
উল্লেখ্য, এতদিন রাজ্যের শাসকদল সীমান্ত সংক্রান্ত অপরাধের জন্য কেন্দ্রের অধীনস্থ বিএসএফ-কেই দায়ী করে এসেছে। সেই আবহে এবার বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির মুখেও বিএসএফের ‘ব্যর্থতা’ এবং দুর্নীতির অভিযোগ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।